Home নাগরিক মতামত খোলা চিঠি প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলাচিঠি
খোলা চিঠিনাগরিক মতামত

প্রধানমন্ত্রী বরাবর খোলাচিঠি

Share
Share

আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জন আকাঙ্ক্ষা, কিছু প্রাসঙ্গিক উদ্বেগ এবং আমাদের প্রত্যাশা

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান সমীপে,
শুরুতেই আপনার নেতৃত্বাধীন নবগঠিত সরকারকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। নির্বাচনের প্রাক্কালে আপনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের ঋণমুক্তি এবং স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সরকার গঠনের পর দ্রুততম সময়ে সেগুলোর বাস্তবায়ন শুরু হওয়ায় আপনাকে সাধুবাদ জানাই। বিশেষ করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য স্টুডেন্ট লোন এবং নারী শিক্ষা নিয়ে আপনার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তসমূহ একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের আশাবাদী করে তুলেছে। আপনার মন্ত্রিসভার সদস্যগণ, বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় ভূমিকা দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে জনমনে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার সুযোগ করে দিচ্ছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে কিছুটা অদুর অতীতের কথা মনে করিয়ে দিতে চাই।
অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে দেশ যখন চরম উগ্রবাদ আর অরাজকতার সম্মুখীন হয়েছিল, তখন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র বিরুদ্ধে স্বার্থান্বেষী মহল যে অপপ্রচার চালিয়েছিল, তা থেকে আমরা বিস্মৃত হইনি। রাজনীতির নামে উচ্ছৃঙ্খল, অশালীন, অশোভনতার চুরান্ত রুপ দেশবাসী দেখতে পেয়েছে।ওই সময়ে প্রগতিশীল লেখক, বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রেণীর মানুষেরা,অ্যাক্টিভিস্টরা একচেটিয়া বিএনপির পক্ষে লিখে গেছেন,কথা বলে গেছেন।বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি বা বিশ্বায়নের বিপরীতে থাকা কোনো গোষ্ঠীর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই তাদের এই কর্মকান্ড করা। লেখক মহিউদ্দিন মোহাম্মদ, কিশোর পাশা ইমন, আমি আমাদের মতো আরও অনেক সমমনা মানুষরা বিএনপির পক্ষে ভোট চেয়েছি,প্রচারণা চালিয়েছি। পাঠক/ভক্তদের উদ্বুদ্ধ করেছি।আপনার উপর আস্থা রেখে সুফল পাবার আশা দেখিয়েছি। নির্বাচনের বেশিদিন হয়নি। এখনো আমাদের সেসব লেখা,ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে,পত্রপত্রিকায়,বইতে রয়ে গেছে।

আমাদের সেই আস্থার একটি বড় ভিত্তি ছিল আপনার দেওয়া একটি বিশেষ বাণী। গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে আপনি বলেছিলেন, “বিএনপি এমন একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চায় যেখানে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, বিশ্বাসী, অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী, পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী প্রতিটি নাগরিক নিরাপদ থাকবে।” (সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। আপনার এই অন্তর্ভুক্তিমূলক বক্তব্য আমাদের জন্য ছিল আশার আলো।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সাথে লক্ষ্য করছি যে, সাম্প্রতিক কিছু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত আপনার সেই বৈষম্যহীন বাংলাদেশের অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। গত ১৪ মার্চ ২০২৬ তারিখে ‘বাংলা স্ট্রিম’ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, জেলা ও উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে একজন করে ‘ইমাম’ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটিতে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের প্রতিনিধি রাখার এই সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক, তা ভেবে দেখার অবকাশ রয়েছে। অতীতেও আমরা দেখেছি, ধর্মীয় আবেগকে তুষ্ট করার রাজনৈতিক কৌশল শেষ পর্যন্ত হিতে বিপরীত হয়েছে।আওয়ামী লীগের আমলে শেখ হাসিনা মাদ্রাসা শিক্ষা কে স্বীকৃতি, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, ৫৬০ টি মডেল মসজিদ, মসজিদ ভিত্তিক গণশিক্ষা কার্যক্রম সহ আরও নানাবিধ কাজ করে কওমি জননী হয়েছিল এই একই উদ্দেশ্যে। এসব তার জন্য কতটুকু ফলপ্রসূ হয়েছে তা কারোই অজানা নয়। ৯২ শতাংশ মুসলমান, এই পরিসংখ্যানটির ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১০ শতাংশ মানুষ। আর বাকি ৮২ শতাংশ মডারেট মুসলমান এদেশে। আপনি ধর্মের জন্য কাজ করবেন, বাহবা পাবেন। কিন্তু ভোট, জনসমর্থন, জনগণের আস্থা তখনই আসবে যখন আপনার সরকারের সিদ্ধান্ত, কার্যক্রম থেকে জনগণ সরাসরি উপকৃত হবে।সাধারণ বাংলাদেশী নাগরিক রা নিজের লাভ এবং নিজের ক্ষতি ছাড়া কোনোকিছুতেই সত্যিকারের প্রভাবিত হয় না। তবে আবেগের কমতি না থাকায় যে প্রচলিত মতাদর্শ ধারণ করলে সমাজের বড় অংশের অন্তর্ভুক্ত হওয়া যাবে,বা নিজের ব্যর্থতা বা অপকর্মে প্রলেপ দেয়া যাবে সেই মতাদর্শের প্রতি খুব ভালোবাসা দেখায়। ভালোবাসা দেখায় বললাম কারণ ভালোবাসে না,স্রেফ দেখায়ই।

আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে সংখ্যা গরিষ্ঠদের ধর্মীয় প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তি যে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে,এর উদাহরণ আমি ইন্টেরিম সরকারের সময় থেকে দিবো না।আপনার সরকারের শাসনামলেই তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ গত ৭ মার্চ ২০২৬ তারিখে ডিবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সেখানে দেখা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি মসজিদ কমিটি গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে গান-বাজনা ও সকল প্রকার বাদ্যযন্ত্র নিষিদ্ধ করে রীতিমতো ‘হারাম’ ঘোষণা করে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনা তাদের হাতে আইনি ক্ষমতা দেবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই ঘটেছে।এরা যদি আইনশৃঙ্খলার অংশ হয়ে উঠে তাহলে আরও কি কি হবে তা অনুমান করা সহজ এবং অনুমিত পরিস্থিতিটি ভয়াবহ। এরা গণতন্ত্র, সংবিধান, দেশের আইনশৃঙ্খলার উপরে ধর্মের বিধিনিষেধ কে প্রাধান্য দেয়,দিবে। তাহলে এখন প্রশ্ন আসে আপনি হিন্দু,বৌদ্ধ,খৃষ্টান, অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী এই সবাই কে যে নিরাপত্তার অঙ্গিকার দিয়েছিলেন, সেটা কিভাবে বাস্তবায়ন হবে? যেটা এতদিন মব অথবা তৌহিদি জনতার নামধারণ করে আইনবহির্ভূত অত্যাচার ছিল, সেটা এই সিদ্ধান্তের কারণে আইনগত সমর্থন পেয়ে যাবার আশঙ্কা কি নেই?দেশের সকল আইন মান্য করে চলা একজন নাগরিক ধর্মীয় বিধান না মানার কারণে যদি বিপদগ্রস্ত বা লাঞ্চিত হয়, সেই দায়ভার কি এখন থেকে এই সিদ্ধান্তের ওপর বর্তাবে না? আইনশৃঙ্খলা কমিটি তে থাকা ইমামের উদ্যোগে অথবা অনুমতি/সমর্থন সাপেক্ষে এরকম যেকোনো কর্মকাণ্ড যা বাংলাদেশের বর্তমান আইনে অপরাধ, তা যদি সংগঠিত হয় তখন কি তাকে/তাদের আইনের আওতায় আনা হবে, নাকি ইন্টেরিম সরকার যেমন মব কে অঘোষিত স্বীকৃতি দিয়েছিল,এখন থেকে কমিটিতে থাকা হুজুররাও সেরকম স্বীকৃতি বাগিয়ে নিতে পারবে এটা একটি বড় প্রশ্নের জন্ম দেয়। বাংলাদেশের একজন নাগরিকের বাংলাদেশী পরিচয় টি কোনো ধর্ম,দল, গোষ্ঠী, এলাকা ইত্যাদি পরিচয়ের উপরে প্রাধান্য পাবে এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে পারলেই আপনার দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা সম্ভব ।

ইসলাম কে প্রাধান্য দিয়ে, মুসলমানদের উন্নয়নের জন্য আপনি অবশ্যই কাজ করবেন,করছেনও।তবে সেটা যেন অন্যান্যদের জন্য ক্ষতিকর না হয় এই দিকটিকেও সমান প্রাধান্য দিতে হবে।যাকাত কে রাষ্ট্রিয়করণ নিয়ে আপনি ইসলাম ধর্মের পরিচিত মুখদের নিয়ে বৈঠক করেছেন, এখানে যাই সিদ্ধান্ত নিন তা যদি আপনি ফলপ্রসূ করতে পারেন তাহলে এর ভালো দিক আছে।সরকারি ভাবে যাকাত যাদের প্রাপ্য তারা পাবে,তাদের উপকার হবে এটা অবশ্যই ভালো কাজ। দেশের মানুষের জন্য যা-কিছু উপকারী সব বাস্তবায়ন হোক।কোন মাধ্যমে হচ্ছে, এই ক্ষেত্রে সেটা মোটেও গুরুত্বপূর্ণ না। আপনি ইমাম-পুরোহিত সবাইকে বেতন/ভাতা দিচ্ছেন, এটাও অত্যন্ত সুন্দর সিদ্ধান্ত।নির্দিষ্ট আয়ের উৎস এবং কাজের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, আত্মপরিচয় সংকট ( মনেহতে পারে যে নেই,কিন্তু পাড়া-মহল্লার মাদ্রাসা গুলো তে পড়া ছাত্রদের সাথে কথা বলে দেখলে ব্যাপার টা স্পষ্ট বোঝা যায়।) দূর করে। মার্কিন মনোবিজ্ঞানী আব্রাহাম মাসলোর চাহিদা সোপান তত্ত্ব অনুযায়ী বিবেচনা করলে আত্মবিশ্বাস এবং পরিচয় সংকটে থাকা মানুষ দ্রুত অন্ধবিশ্বাসকে গ্রহণ করে পক্ষপাতী হয়ে উঠে। আপনার এধরণের সিদ্ধান্ত তাদের কে দ্রুত ব্রেইন ওয়াশ হবার হাত থেকে ফেরাতে কাজ করবে।তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন, ধর্মীয় শিক্ষার বাইরেও আয় করার মতো কোনো দক্ষতার ব্যবস্থা করা, তাদেরকে গ্লোবালাইজেশনের স্ট্যান্ডার্ডে নিয়ে আসা ইত্যাদির জন্য সরকার আরও প্রকল্প গ্রহণ করতে পারে। তাদের উন্নতি তে কারো আপত্তি নেই।তেমনই অন্য কারো সাংবিধানিক আইনে বৈধ কোনো কাজে যেন তাদেরও আপত্তি করার সুযোগ না থাকে এটা সরকার কে নিশ্চিত করতে হবে।

সংখ্যা গরিষ্ঠদের নিয়ে বাংলাদেশের এমন কোনো সরকার নেই যে কাজ করেনি।কিন্তু দেশ বা দেশের মানুষের ইহকালের জন্য এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব আমার চোখে পড়েনি। আপনার প্রতি আহ্বান থাকবে ভিন্নধর্মী একটি পদ্ধতি অবলম্বন করার। আপনি এদেশে সবথেকে সংখ্যালঘু, ‘ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানো’ প্রগতিশীল শ্রেণীর মানুষদের তাদের প্রাপ্য সম্মান এবং দেশের জন্য তাদের মেধা ও শ্রম ব্যবহার করার রাষ্ট্রীয় সুযোগ তৈরি করুন। জেলা-উপজেলা ভিত্তিক পত্রিকা, পাঠাগার, পাঠচক্র ইত্যাদি বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ড কে প্রাধান্য দিতে হবে।সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যপক প্রচার-প্রসার ঘটাতে হবে। অতিদ্রুত পরিবর্তনশীল সময়ের সাথে দেশের মানুষের মানসিকতা, দৃষ্টিভঙ্গি যেন মিলে বিশেষ করে শিশু-কিশোর রা যেন আধুনিক,সময়োপযোগী মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠে সেই ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সাংস্কৃতিক চর্চার প্রসার ঘটাতে হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেছেন “আমাদের দেশ থেকে আন্তর্জাতিক মানের গায়ক-গায়িকা বেরিয়ে আসবে সেরকম কাজ করা হবে”। এমন কাজ সত্যিই করা হোক। আমাদের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে,এদিকে মনোযোগ দেয়া হোক। কন্টেন্ট ক্রিয়েশন বর্তমানে পুরো বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।এই ইন্ডাস্ট্রিতেও আমাদের সম্ভাবনা কে কাজে লাগানো হোক।আপনিও আপনার একটি ভিডিও বার্তায় এ-বিষয়ক কথা বলেছিলেন।তাদের অর্থনৈতিক লেনদেনে যেন সমস্যা মোকাবিলা না করতে হয় এমন উদ্যোগ এর কথা বলেছিলেন।আমাদের দেশের সাহিত্য একজন লেখক এবং পাঠকের জায়গা থেকে আমি বলবো এখনো ভালো। সব ঘরনায়ই শক্তিশালী লেখক আমাদের আছে, সুযোগ পেলে তারা অসাধারণ ফলাফল দেখাতে পারবে। ( দেশের সামগ্রিক অবস্থার বিবেচনায় গতবছর এবং এবছরের বইমেলা কে আমি বই ইন্ডাস্ট্রির ধ্বংসের উদাহরণ হিসেবে দেখছি না।আগামী বছরের বইমেলা নিয়ে আমি আশাবাদী।) তাদের সেই সুযোগ টি দেয়া হোক। দেশের প্রত্যেক জেলা/উপজেলায় লেখক যারা আছেন, স্থানীয়দের মতে স্বীকৃত জ্ঞানী মানুষ যারা আছেন , নিজ উদ্যোগে পত্রিকা প্রকাশ করেন যে সম্পাদক,এলাকার উন্নয়নে পাঠাগার গড়ে তুলেছেন এমন মানুষ, শিল্প সাহিত্য নিয়ে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন এমন মানুষ এরকম ভাবে যারা নির্লোভ এবং সমাজের বাঁকা চোখকে পরোয়া না করে অলাভজনক কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছেন কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশা ব্যাতিত, এরকম মানুষদের ওই আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে রাখতে হবে । তাদের মতামত কে,তাদের দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দিতে হবে। আপনার দলের স্থানীয় প্রতিনিধিকে ওই কমিটি তে থাকা ইমাম এলাকার কোন মোড়ে আরও একটি মাদ্রাসা করলে তা মানুষের নজরে আসবে এবং পরকালীন কল্যাণ হবে, শুধু এই পরামর্শই দিতে পারবেন। তবে এলাকার কোন ছেলেটি মেধাবী বা সম্ভাবনাময়,এলাকার কোন প্রতিষ্ঠানে কি পরিবর্তন করলে তা মানুষের মেধা-মনন বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারবে,রাষ্ট্র থেকে এলাকার কোন খাত কতটুকু সহায়তা পেলে সেই সহায়তার সর্বোচ্চ ফলাফল বের করে আনা যাবে এধরণের পরামর্শ/পরিকল্পনার জন্য আপনার দলের স্থানীয় প্রতিনিধির প্রয়োজন বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা করা মানুষদের। পরকালীন কল্যাণের বাণী দিয়ে মানুষের থেকে টাকা তুলে মসজিদ-মাদ্রাসা বানাতে,বাড়াতে পারা একজন মানুষ অপরদিকে সামাজিক, অর্থনৈতিক নানাবিধ বাধা অতিক্রম করে নিজের অর্থ দিয়ে, শ্রম দিয়ে, সময় দিয়ে, মানুষের কল্যাণের জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ড করা একজন মানুষ, এই দু’জন এর মধ্যে কারহাতে সুযোগ এলে দেশ ও মানুষের প্রকৃত উন্নয়ন হবে এই নির্ণয় আপনাকে করতে হবে।

বর্তমানে আমাদের দেশের যে অবস্থা এবং বিশ্ব রাজনীতির যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তাতে ‘মানুষ কি দেখতে চায়’ এরথেকে ‘রাষ্ট্রের জন্য কি প্রয়োজন’ এই বিষয় টি অনেক এগিয়ে রাখতে হবে। প্রতিবেশী দেশ ভারত কিভাবে ইজরায়েলের সঙ্গেও বন্ধুত্ব রাখছে,আবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে তাদের জাহাজও বের করে নিয়ে আসছে এটা আমাদের গবেষণা করতে হবে। আমেরিকাও তাদের বন্ধু, রাশিয়াও।ইরানের নাবিকদের আশ্রয় দিয়ে, যুদ্ধে সহায়তা না করার কথা বলার পরেও আমেরিকার সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক কিভাবে টিকে আছে এটা আমাদের সরকারে থাকা মানুষদের ভাবতে হবে।ইন্টেরিম আমলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যতটা নষ্ট হয়েছে, পররাষ্ট্রনীতি তে প্রচন্ড দক্ষতার পরিচয় দিয়ে বর্তমান সরকার কে সেটুকুর মেরামত করতে হবে।পরবর্তী নির্বাচনে আবার সরকার গঠন করার জন্য শর্টকাট পদ্ধতি অনুসরণ না করে আপনার দল বিএনপি এমন পদ্ধতি অনুসরণ করুক যেন তাদের কর্মকাণ্ডে জণগণ স্বেচ্ছায় বারবার এই সরকারকে তাদের দেখভালের দায়িত্ব দিতে চায়। মালয়েশিয়া তে মাহাথির মোহাম্মদ ৮১-০৩ অব্দি এমনভাবে কাজ করে গিয়েছিলেন, যে তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ছাড়ার পরে পরবর্তী সরকার কে মানুষ গ্রহণ করতে পারেনি। আবারও উনাকে বিরানব্বই বছর বয়সে দেশের ক্ষমতায় বসিয়েছিলো সেদেশের মানুষ।এবারের নির্বাচনে বিএনপি কে বিপুল ভোট দিয়ে বাংলাদেশের মানুষও তেমনই আকাঙ্খা প্রকাশ করেছে যে আপনি আপনার দীর্ঘদিন উন্নত দেশে, উন্নত সমাজব্যবস্থায় থেকে অর্জিত জ্ঞান এবং দৃষ্টিভঙ্গির এমন ব্যবহার করবেন যাতেকরে বাংলাদেশের মানুষ বারবার আপনার হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে পারে।

আপনি দেশে ফিরে বলেছিলেন আপনার একটি পরিকল্পনা আছে। সেই পরিকল্পনার উপর ভিত্তি করেই আমাদের শিক্ষা, অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, জনশক্তি, প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার ,রপ্তানি, পর্যটন, স্পোর্টস,আমাদের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি সবকিছু বিশ্বের সামনে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে এমনটাই আমাদের প্রত্যাশা। আপনার পিতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এদেশের স্বাধীনতায় যেভাবে ভূমিকা রেখেছেন, এদেশের উন্নতি তে আপনিও সেভাবে ভূমিকা রাখবেন আমরা এমন আশাবাদী। আপনার প্রতি অনুরোধ, নিরাশ করবেন না।

শ্রদ্ধা ও শুভকামনায়,
আসিফ খন্দকার
প্রাবন্ধিক ও সাহিত্য সাময়িকী সম্পাদক

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় ১১ জন নিহত

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আর কেবল সীমান্ত সংঘর্ষে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ইরানের জনবহুল আবাসিক এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাতে ইরানের...

ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দিতে ইসরায়েলে ‘বিতর্কিত’ আইন পাশ

এক ঐতিহাসিক ও চরম বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিধান রেখে নতুন আইন পাস করেছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট (নেসেট)। সোমবার (৩০ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন...