পর্তুগালের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলে শক্তিশালী ঝড় ‘ক্রিস্টিন’ আঘাত হানার পর দেশজুড়ে ভয়াবহ মানবিক ও অবকাঠামোগত সংকট তৈরি হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) মধ্যরাতের পর থেকে শুরু হওয়া এই ঝড়ে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সাড়ে আট লাখেরও বেশি মানুষ, যাদের অনেকেই চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
পর্তুগাল সরকার এই ঝড়কে ‘জলবায়ুজনিত চরম দুর্যোগ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিয়েছে। ঘণ্টায় ১৫০ থেকে ১৭৮ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া ঝোড়ো হাওয়ায় বহু ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে গেছে, গাছ উপড়ে পড়েছে এবং বিদ্যুৎ লাইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপকূলীয় শহর ফিগুয়েইরা দা ফোজে-এ একটি বিশাল ফেরিস হুইল উল্টে যাওয়ার ঘটনা ঝড়ের ভয়াবহতার চিত্র আরও স্পষ্ট করেছে। পরিস্থিতি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে যে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে লেইরিয়া জেলায়। সেখানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন ধাতব পাতের আঘাতে এবং অন্যজন ভবনের ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান। এছাড়া রাজধানী লিসবনের নিকটবর্তী ভিলা ফ্রাঙ্কা দে শিরা এলাকায় গাছ ভেঙে একটি গাড়ির ওপর পড়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে উত্তাল সমুদ্র পরিস্থিতির কারণে পর্তুগালের উপকূলীয় এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছে, কিছু এলাকায় ঢেউয়ের উচ্চতা ১৪ মিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, যা নৌ চলাচল ও উপকূলবাসীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
লেইরিয়ার মেয়র গনসালো লোপেস ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতিকে “বোমা হামলার মতো” বলে বর্ণনা করেছেন এবং সরকারকে জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বহু এলাকা কার্যত বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে এবং দ্রুত জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রো নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা ও পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
পর্তুগালজুড়ে তাণ্ডব চালানোর পর ঝড় ‘ক্রিস্টিন’ বর্তমানে স্পেনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এরই মধ্যে স্পেনের আন্দালুসিয়া ও আলমেরিয়া অঞ্চলে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। সেখানেও ঝড়ের প্রভাবে লাখো মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপজুড়ে এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তব ও উদ্বেগজনক ইঙ্গিত বহন করছে।
Leave a comment