বিয়ের সানাই বাজার কথা ছিল যে বাড়িতে, সেখানে এখন চলছে স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদ। নাটোরের বড়াইগ্রামে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রকৌশলী জুলফিকার আলী জিল্লু (২৮)। আজ সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে তার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে একদিন আগেই তাকে পাড়ি জমাতে হলো না ফেরার দেশে।
নিহত জুলফিকার আলী জিল্লু পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলার নওদাপাড়া গ্রামের আনসারুল হক প্রামাণিকের ছেলে। পেশায় তিনি একজন প্রকৌশলী ছিলেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আজ সোমবার দুপুরে বিয়ের লগ্ন নির্ধারিত ছিল। তবে গত রোববার বিকেলে বড় বোন ও ভগ্নিপতিকে আনতে নিজস্ব প্রাইভেটকার নিয়ে নাটোরের বনপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন জুলফিকার। পথে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রাম উপজেলার গড়মাটি এলাকায় পৌঁছালে তাকে বহনকারী গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এসময় দ্রুতগামী প্রাইভেটকারটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিকল ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়।
ধাক্কায় প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই জুলফিকার আলী জিল্লু প্রাণ হারান। খবর পেয়ে বনপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করে।
বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।”
জুলফিকারের এমন অকাল মৃত্যুতে শুধু তার পরিবারই নয়, বরং পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
Leave a comment