উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়ার জামফারা অঙ্গরাজ্যে সশস্ত্র বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বহু নারী ও শিশুকে অপহরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে হামলা শুরু হয়ে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চলে। জামফারার বুক্কুয়ুম এলাকার টুঙ্গান দুৎসে গ্রামে মোটরসাইকেলে করে আসা হামলাকারীরা ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং বাসিন্দাদের জিম্মি করে নিয়ে যায়।
বুক্কুয়ুম দক্ষিণ এলাকার আইনপ্রণেতা হামিসু এ. ফারু জানান, হামলাকারীরা একের পর এক গ্রামে আক্রমণ চালিয়েছে। এতে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। অপহৃতদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়; নিখোঁজদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।
গ্রামবাসীরা বলছেন, হামলার আগেই বিপদের ইঙ্গিত ছিল। ৪১ বছর বয়সী আবদুল্লাহি সানি দাবি করেন, হামলার একদিন আগে ১৫০টিরও বেশি মোটরসাইকেলে সশস্ত্র লোকজনকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। বিষয়টি নিরাপত্তা বাহিনীকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। হামলায় তার পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে তিনি জানান।
নাইজেরিয়ার উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র অপরাধী চক্র ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। অপহরণ, গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া এবং গণহত্যার ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।
গত সপ্তাহে উত্তর-পশ্চিম নাইজার রাজ্যের বর্গু এলাকায় হামলায় অন্তত ৪৬ জন নিহত হন। কনকোসো গ্রামে সবচেয়ে ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৩৮ জনকে গুলি করে বা গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, অপরাধী চক্রগুলো দ্রুতগতির মোটরসাইকেল ব্যবহার করে গ্রামাঞ্চলে হামলা চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়, ফলে নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ কঠিন হয়ে পড়ে।
ক্রমবর্ধমান সহিংসতার প্রেক্ষাপটে নাইজেরিয়া সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করেছে। গত ২৫ ডিসেম্বর উত্তরাঞ্চলীয় সোকোতো রাজ্যে নাইজেরীয় কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালায়।
নাইজেরিয়ার প্রতিরক্ষা সদর দপ্তরের মুখপাত্র সামাইলা উবা জানান, স্থানীয় বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিতে ১০০ জন মার্কিন সেনা ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছেন। তারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবেন না; বরং প্রযুক্তিগত সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সরঞ্জাম সহায়তার মাধ্যমে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে সহযোগিতা করবেন। সব কার্যক্রম থাকবে নাইজেরীয় সামরিক কমান্ডের অধীনে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাইজেরিয়ায় সহিংসতা দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক হামলার পর জামফারা ও আশপাশের অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করছে। স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো দ্রুত উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারের দাবি জানিয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য শুধু সামরিক অভিযান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
জামফারার এই রক্তক্ষয়ী হামলা আবারও মনে করিয়ে দিল—নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা সংকট এখনো গভীর এবং জটিল, যার স্থায়ী সমাধান এখনও অধরাই রয়ে গেছে।
Leave a comment