মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। শনিবার (২৮ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত ইংরেজি দৈনিক ‘তেহরান টাইমস’-এর প্রথম পাতায় ‘ওয়েলকাম টু হেল’ বা ‘নরকে স্বাগতম’ শীর্ষক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, মার্কিন সেনারা ইরানের ভূখণ্ডে পা রাখলে তাদের ‘কফিনে করে ফিরে যেতে হবে’।
সম্প্রতি ওয়াশিংটনে ইরানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু ও ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সীমিত পরিসরে স্থল অভিযানের বিষয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার খবরের প্রেক্ষাপটে এই কঠোর বার্তা দিল তেহরান। জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ইরানের অভ্যন্তরে উচ্চমাত্রা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করতে স্বল্পসংখ্যক বিশেষ বাহিনী মোতায়েনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। যদিও পেন্টাগন থেকে এখনও চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা আসেনি, তবে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের গুঞ্জন অঞ্চলটিতে নতুন করে যুদ্ধের মেঘ ঘনীভূত করছে।
তেহরান টাইমসের প্রথম পাতায় ভারী অস্ত্রে সজ্জিত সেনাদের সামরিক বিমানের দিকে অগ্রসর হওয়ার একটি প্রতীকী চিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সংবাদপত্রের শিরোনাম নয়, বরং এটি ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন। প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে, ইরানকে কেন্দ্র করে কোনো সংঘাত শুরু হলে তা কেবল এই অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোকে সরাসরি সতর্ক করেছেন। তিনি আহ্বান জানিয়েছেন যেন কোনো দেশ তাদের ভূখণ্ডকে ইরানবিরোধী হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে না দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “ইরান নিজে থেকে কোনো যুদ্ধ শুরু করে না। তবে আমাদের জাতীয় অবকাঠামো বা অর্থনৈতিক কেন্দ্রে আঘাত করা হলে তার জবাব হবে অত্যন্ত সুদৃঢ় ও শক্তিশালী।”
সামরিক পরিকল্পনাবিদদের মতে, ইরানের গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো ধ্বংস বা নিয়ন্ত্রণে নিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের স্থলবাহিনী মোতায়েন করতে হতে পারে। তবে ইরান তার স্থল প্রতিরক্ষা এবং মিত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতার ওপর পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করে জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী এখানে ‘কাদায় আটকে যাওয়া’র মতো দীর্ঘমেয়াদি ও আত্মঘাতী সংকটে পড়বে।
যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার কথা বলছেন, তবুও তেহরানের এই ‘নরকে স্বাগতম’ বার্তা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার অবিশ্বাস এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
Leave a comment