দেশের ব্যাংক খাত থেকে বিতরণ করা ঋণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম ঋণ রয়েছে সিলেট বিভাগে। বিপরীতে দেশের মোট ব্যাংক ঋণের সিংহভাগই কেন্দ্রীভূত রয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে, যা দেশের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বৈষম্যের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সর্বশেষ হিসাব পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ব্যাংক খাত থেকে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ২৭ কোটি টাকা, যা দেশের মোট ব্যাংক ঋণের মাত্র ১ দশমিক ০৭ শতাংশ। দেশের আটটি বিভাগের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন ঋণ বিতরণের হার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, দেশের ব্যাংক ঋণের বড় অংশ এখনো ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হচ্ছে। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ঢাকা বিভাগে ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১১ লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট ঋণের ৬৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ। একই সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। অর্থাৎ এই দুই বিভাগ মিলেই দেশের প্রায় ৮৭ শতাংশ ব্যাংক ঋণ নিজেদের মধ্যে কেন্দ্রীভূত রেখেছে।
অন্য বিভাগগুলোর মধ্যে খুলনা বিভাগে ব্যাংক খাত থেকে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার ৪৯৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৭৪ শতাংশ। রাজশাহী বিভাগে ঋণের পরিমাণ ৬৬ হাজার ৬৩ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ। একই সময়ে রংপুর বিভাগে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ৪১ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৩৫ শতাংশ। ময়মনসিংহ বিভাগে ঋণের পরিমাণ ২২ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা, যা দেশের মোট ঋণের ১ দশমিক ২৮ শতাংশ। বরিশাল বিভাগে ঋণের পরিমাণ ১৯ হাজার ৬০২ কোটি টাকা, যা মোট ব্যাংক ঋণের মাত্র ১ দশমিক ১০ শতাংশ।
খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রধানত ঢাকা ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক হওয়ায় ব্যাংক ঋণের বড় অংশও এই দুই বিভাগে কেন্দ্রীভূত রয়েছে। একই সঙ্গে অধিকাংশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, বড় শিল্পকারখানা ও ব্যবসা কেন্দ্র এই অঞ্চলগুলোতে অবস্থান করায় ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রেও এই অঞ্চলগুলো এগিয়ে রয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের অন্যান্য বিভাগে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে আঞ্চলিকভাবে ব্যাংক ঋণের বণ্টনে ভারসাম্য তৈরি হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তুলনামূলকভাবে কম ঋণপ্রাপ্ত অঞ্চলগুলোতে ব্যাংকিং কার্যক্রম বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন সময় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়ে আসছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে এসব অঞ্চলে বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়াতে একটি বিশেষ কর্মসূচিও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Leave a comment