দক্ষিণ সুদানের দক্ষিণ কর্দোফান রাজ্যে একটি স্বর্ণখনি ধসে অন্তত ১৩ জন খনি শ্রমিক নিহত এবং আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সুদানের মিনারেল রিসোর্সেস কোম্পানি (এসএমআরসি) বুধবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খার্তুম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
এসএমআরসি জানায়, গত শুক্রবার উম্মে ফাকরুন এলাকার একটি পরিত্যক্ত খনিতে ধসের ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট খনি এলাকা পূর্বেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল এবং সেখানে আনুষ্ঠানিক খনন কার্যক্রম চালু ছিল না। তবুও কিছু শ্রমিক গোপনে সেখানে প্রবেশ করে অবৈধভাবে স্বর্ণ উত্তোলনের কাজ করছিলেন বলে কর্তৃপক্ষ জানায়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের নিকটবর্তী চিকিৎসা কেন্দ্রে পাঠায়। তবে খনির ভেতরের কাঠামো দুর্বল হওয়ায় উদ্ধার অভিযান জটিল হয়ে পড়ে। ধসে পড়া মাটি ও পাথরের স্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। আহতদের অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি, তবে তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এসএমআরসি’র বিবৃতিতে বলা হয়, বন্ধ ঘোষণা করা খনিগুলোতে প্রবেশ করা আইনত দণ্ডনীয় এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানটি পুনরায় সতর্ক করে জানিয়েছে, অবৈধ খনন শুধু আইনি ঝুঁকি নয়, প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত খনিগুলোতে মাটির নিচের গহ্বর দুর্বল হয়ে পড়ে, কাঠামোগত সহায়তা ভেঙে যায় এবং বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নষ্ট হয়। ফলে সামান্য কম্পন বা ভারসাম্যহীন চাপেই ধস নামতে পারে। দক্ষিণ কর্দোফান অঞ্চলে খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব এবং নিয়ন্ত্রণহীন খনন কার্যক্রম বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে চলমান সংঘাত দেশের অর্থনীতিকে গভীর সংকটে ফেলেছে। এই সংঘাতের অর্থ জোগানের অন্যতম উৎস হিসেবে স্বর্ণ শিল্পের ভূমিকা নিয়ে বহুবার আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ায় অবৈধ খনন ও চোরাচালান কার্যক্রম বেড়েছে।
অর্থনৈতিক সংকট ও কর্মসংস্থানের ঘাটতির কারণে অনেক মানুষ ঝুঁকি জেনেও পরিত্যক্ত খনিতে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যুদ্ধ ও অস্থিরতার কারণে বিকল্প জীবিকার সুযোগ কমে যাওয়ায় শ্রমিকরা নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে বিপজ্জনক খনিতে প্রবেশ করছেন।
এসএমআরসি সম্প্রতি ঘোষণা দিয়েছে, ২০২৫ সালে সুদানে ৭০ টন স্বর্ণ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে রাষ্ট্রীয় খাতের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও প্রথাগত খনি শ্রমিকদেরও ভূমিকা থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
Leave a comment