ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তেহরানে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) এক সরকারি বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করা হয় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা ‘রয়টার্স’।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র জানান, তেহরানে অবস্থিত দূতাবাসের স্বাভাবিক কূটনৈতিক ও কনস্যুলার কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। তবে প্রশাসনিক কাজকর্ম এখন থেকে ‘রিমোটলি’ পরিচালিত হবে। একই সঙ্গে ইরানে অবস্থানরত বা সেখানে ভ্রমণের পরিকল্পনাকারী ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতাও হালনাগাদ করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাসের সব কূটনৈতিক ও কনস্যুলার কর্মীকে ইতোমধ্যে ইরান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তেহরানে সরাসরি দূতাবাসের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে লন্ডন।
এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পর পুরো অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা বেড়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত ওয়াশিংটনের সামরিক ঘাঁটি গুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও তুরস্কের মতো দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা থাকায় ওই হুমকি শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, তার মিত্র দেশগুলোকেও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন ও সামরিক স্থাপনায় নিরাপত্তা সতর্কতা জোরদার করেছে। কোথাও কোথাও অপ্রয়োজনীয় কর্মী প্রত্যাহার এবং দূতাবাস কার্যক্রম সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, তেহরানে ব্রিটিশ দূতাবাস বন্ধের সিদ্ধান্ত মূলত একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ, যা ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কাকেই প্রতিফলিত করে। লন্ডন চায় না, কোনো ধরনের আকস্মিক সহিংসতা বা কূটনৈতিক উত্তেজনায় তাদের নাগরিক বা কূটনীতিকরা ঝুঁকির মুখে পড়ুক।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে তেহরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সম্পর্ক এমনিতেই টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে।
পরিস্থিতি কীভাবে এগোবে, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। আপাতত ব্রিটিশ দূতাবাস বন্ধের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দিচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
Leave a comment