সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় আনসার ও ভিডিপির এক প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন কমান্ডার পদে সুপারিশের বিনিময়ে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বড়দল দক্ষিণ ইউনিয়নের পুরান খালাস গ্রামের বাসিন্দা আমির আলী। অভিযোগে বলা হয়েছে, তাহিরপুর উপজেলা আনসার ও ভিডিপির প্রশিক্ষক মো. হাসিবুল তারেক তাঁর নাম সুপারিশ করার জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন।
অভিযোগকারী আমির আলী জানান, তিনি দীর্ঘদিন আনসার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু ঘুষের টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তাঁর নাম তালিকাভুক্ত করা হয়নি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলায় পাঠানো হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে এবং যোগ্য প্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
আমির আলীর দাবি, তিনি অগ্নিনির্বাপণ, রাস্তা মেরামত, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সহায়তা এবং টাঙ্গুয়ার হাওরে অবৈধ জাল জব্দসহ বিভিন্ন সরকারি অভিযানে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। তাঁর এই অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও ঘুষ দিতে না পারায় তাঁকে উপেক্ষা করা হয়েছে। এমনকি অভিযোগকারীকে হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে প্রশিক্ষক মো. হাসিবুল তারেক বলেন, তিনি কোনো ধরনের অর্থ দাবি করেননি। তাঁর দাবি, যাঁর কাগজপত্র আগে জমা পড়েছে, তাকেই নিয়ম অনুযায়ী তালিকাভুক্ত করে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগকারী দেরিতে আবেদন করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে তাহিরপুর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা সালমা বেগম বলেন, তিনি সম্প্রতি এ উপজেলায় যোগদান করেছেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা আনসার ও ভিডিপির কমান্ড্যান্ট (উপ-পরিচালক) মো. সুজন মিয়া জানান, ইউনিয়ন কমান্ডার পদে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তালিকা বাতিল করে পুনরায় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
Leave a comment