জুলাই গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের সমন্বয় ও দিকনির্দেশনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন রাশেদ খান। গণঅধিকার পরিষদ থেকে পদত্যাগ করে সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দেওয়া এই নেতা বলেন, আন্দোলনের পুরো সময়জুড়েই তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুসরণ করেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ মন্তব্য করেন রাশেদ খান। সাক্ষাৎকে ‘রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আন্দোলন, সাংগঠনিক পুনর্গঠন ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
রাশেদ খান জানান, জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন ধাপে সমন্বয়হীনতার যে অভিযোগ মাঝেমধ্যে উঠেছিল, বাস্তবে তা ছিল না। বরং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে মাঠপর্যায়ের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। তার ভাষায়, “আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা তারেক রহমানের দিকনির্দেশনা অনুযায়ীই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছি। সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল—এমন দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।”
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে ন্যূনতম ঐক্য বজায় রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। সে ক্ষেত্রে তারেক রহমানের কৌশলগত নির্দেশনা আন্দোলনকে গতিশীল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি মনে করেন।
সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে রাশেদ খান জানান, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাকে ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাংগঠনিক দায়িত্ব দিয়েছেন। এই দায়িত্বকে তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আস্থা’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা আমি আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে চাই। ঝিনাইদহ-৪ আসনে দলকে সুসংগঠিত করাই এখন আমার প্রধান লক্ষ্য।”
ঝিনাইদহ-৪ আসনে দলীয় ঐক্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সকল নেতাকর্মী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্ত মেনে একযোগে কাজ করবেন। তারেক রহমানের সঙ্গে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, দলের কেউ তার নির্দেশনার বাইরে গিয়ে ধানের শীষের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে না। বরং সবাই এক প্ল্যাটফর্মে থেকে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে মাঠে থাকবেন।
রাশেদ খান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অতীতের মান-অভিমান ও বিভাজন ভুলে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। তার ভাষায়, “রাজনীতিতে মতপার্থক্য থাকতেই পারে। কিন্তু দলের স্বার্থে সবাই যদি একসঙ্গে কাজ করি, তাহলে সফলতা আসবেই।” তিনি দাবি করেন, তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করবেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বকে বিজয়ী করবেন।
বিএনপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রাশেদ খান বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় ভূমিকা রাখার প্রয়োজন অনুভব করেছেন। তিনি বলেন, “আমি মনে করি, বিএনপি এখন দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান শক্তি। এই প্ল্যাটফর্ম থেকেই জনগণের কথা আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা সম্ভব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশেদ খানের এই বক্তব্য ও বিএনপিতে তার সক্রিয় ভূমিকা বিরোধী রাজনীতির ভেতরে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ে তারেক রহমানের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্য বক্তব্য বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করার একটি কৌশল হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, রাশেদ খানের বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবস্থানই নয়, বরং জুলাই গণআন্দোলন, দলীয় ঐক্য এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনকেন্দ্রিক কৌশল নিয়ে বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গিও প্রতিফলিত করছে। আগামী দিনে মাঠপর্যায়ে এই বক্তব্য ও সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তব প্রতিফলন কতটা দেখা যায়, সেটিই এখন রাজনৈতিক অঙ্গনের মূল আলোচ্য বিষয়।
Leave a comment