বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়া, সুইডেন, ডেনমার্ক ও নরওয়ের রাষ্ট্রদূতরা সাক্ষাৎ করেছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে রাষ্ট্রদূতরা তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এবং দলটির চেয়ারম্যানের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির বলেন, “ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের একটি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে তারেক রহমানের যে দৃষ্টিভঙ্গি—তা আন্তর্জাতিক অংশীদারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আজ চারটি দেশের রাষ্ট্রদূত সাক্ষাৎ করেছেন। এগুলো ছিল সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা ভবিষ্যতে কীভাবে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে পারি—সেই বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।”
হুমায়ুন কবির জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বৈঠকে কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনী ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়নি। তবে রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই নির্বাচনের পর বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক যাত্রার দিকে আরও দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হবে।
বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বৈঠকে দলটির ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব নিয়েও প্রাসঙ্গিক আলোচনা হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারলে এই সংস্কার কাঠামোর আলোকে কীভাবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখে অর্থনীতি, উন্নয়ন ও সুশাসনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদার করা যায়—সে বিষয়ে ধারণাগত আলোচনা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়া ও উত্তর ইউরোপের চারটি দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে তারেক রহমানের এই সাক্ষাৎ কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এসব দেশ আন্তর্জাতিক রাজনীতি, মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে থাকে। একই সঙ্গে রাশিয়া বাংলাদেশের জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
বৈঠকে বিএনপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য মাহাদী আমিন এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রাশেদুল হক। তারা প্রত্যেকেই আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে দলীয় অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
Leave a comment