বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের সংকটকালীন সময়ে অসামান্য অবদান রাখার পর ড. আহসান এইচ মনসুরের বিদায় সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়ার ঝড় তুলে দিয়েছে। বিশিষ্ট লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট ফাহাম আব্দুস সালাম ড. মনসুরের প্রস্থানকে ‘জাতির জন্য চরম দুর্ভাগ্য’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ফাহাম আব্দুস সালাম তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সচল করতে এবং বিপর্যস্ত ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করতে ড. মনসুর যে অসামান্য অবদান রেখেছেন, তা তাকে একজন প্রকৃত হিরোর মর্যাদা দিয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কারণে এমন একজন দক্ষ অর্থনীতিবিদের বিদায় অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি লিখেছেন, “যদি এমন একজন মানুষকেও হীন স্বার্থ বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে বিদায় নিতে হয়, তবে তা একপ্রকার চরম অকৃতজ্ঞতার পরিচায়ক। সাধারণ মানুষের মধ্যে লোভ এবং ভালো-মন্দ বিচার করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলা আজ আমাদের জাতিকে এক অন্ধকার অধ্যায়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।”
ফাহাম আব্দুস সালাম ড. মনসুরের বিদায়কে ‘ভয়াবহ দিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন এবং মন্তব্য করেছেন, “জাতি হিসেবে আমরা এখনও যোগ্য মানুষকে যথাযথ সম্মান দিতে শিখিনি। এমন প্রজ্ঞাবান ও দক্ষ নেতৃত্বের অভাব দেশের জন্য বড় ধাক্কা।”
এই প্রস্থানের বিষয়ে অর্থনীতিবিদ, বিশ্লেষক এবং নাগরিকরা সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। অনেকে ড. মনসুরকে ‘জাতির হিরো’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, আবার কেউ এটিকে দেশের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি হিসেবে দেখছেন।
ফাহাম আব্দুস সালামের মন্তব্য নতুন করে দেশের নেতৃত্ব, নীতি ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে বিতর্ককে তীব্র করেছে। অর্থনীতিবিদদের গুরুত্ব, বিশেষ করে দেশের সংকটকালীন সময়ে তাদের অবদান ও সম্মান প্রদানের প্রয়োজনীয়তা এখন আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে।
ড. মনসুরের বিদায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশের বিশ্লেষক ও নাগরিকরা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এমন যোগ্য নেতৃত্বকে সম্মান প্রদানের প্রথা প্রতিষ্ঠিত হবে, যাতে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন অব্যাহত থাকে।
Leave a comment