সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শিববাড়ি এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় ডোবায় পড়ে গুরুতর আহত পোষা হাতি সুন্দরমালা শেষ পর্যন্ত প্রাণে বাঁচেনি। প্রায় দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে হাতিটি মারা যায়।
নিহত হাতিটির বয়স ছিল ৪২ বছর। এর মালিক মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা এলাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম।
ঢাকার প্রাণীসেবা সংগঠন পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রাকিবুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার সকাল থেকেই হাতিটি নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে ছিল। দুপুরে তার মৃত্যু হয়। এ সময় হাতিটির মালিকপক্ষের প্রতিনিধি আবদুস সবুর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
রাকিবুল হক জানান, উদ্ধার করার পর হাতিটির দাঁড়ানোর মতো শারীরিক শক্তি ছিল না। তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গিয়েছিল, পেছনের ডান পা নড়াতে পারছিল না এবং পিঠের মেরুদণ্ড বরাবর গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। এসব আঘাতের ফলে রক্তচাপ বেড়ে হার্ট অ্যাটাকের মাধ্যমে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ এলাকায় পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে আয়োজিত রথযাত্রা ও মেলা অনুষ্ঠানে হাতিটিকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ইমন ও রাকিব নামের দুই মাহুতের সঙ্গে অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে গত শনিবার রাতে দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকায় একটি ট্রেন হাতিটিকে ধাক্কা দেয়। এতে হাতিটি রেললাইন সংলগ্ন একটি ডোবায় পড়ে গুরুতর আহত হয়।
পরদিন রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে স্থানীয় প্রশাসন, বন বিভাগ, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক দল যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম চালায়। পেলোডার যন্ত্র ও রশির সাহায্যে হাতিটিকে ডোবা থেকে ডাঙায় তোলা হয়। দীর্ঘ সময় পানিতে পড়ে থাকায় হাতিটি চরমভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এ সময় তাকে স্যালাইন দেওয়া হয় এবং এর আগে স্টেরয়েড ও অ্যান্টিহিস্টামিন প্রয়োগ করা হয়েছিল।
প্রাণী কল্যাণকর্মীরা জানান, সুন্দরমালার একমাত্র সন্তান সাত বছর বয়সী হাতি ‘বীর বাহাদুর’ এখন একাই রয়ে গেল। চলতি মাসের শুরুতে তাকে প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে মায়ের কাছ থেকে আলাদা করা হলেও বন বিভাগের আপত্তির পর পুনরায় মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
Leave a comment