মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনার পারদ আরও উসকে দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আল্টিমেটাম সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ থেকে অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি নাকচ করে দিয়ে তেহরান সেখানে এক ‘নতুন ব্যবস্থা’ (New Order) চালুর ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই জলপথ আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় ইরানকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত ৮টার (ইস্টার্ন টাইম) মধ্যে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না করলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামোগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে। ট্রাম্পের ভাষায়, “হয় নরকের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত হও, নয়তো প্রণালী খুলে দাও।”
ট্রাম্পের এই হুমকির পাল্টা জবাবে আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা পারস্য উপসাগরে নতুন শৃঙ্খলা বাস্তবায়নের জন্য চূড়ান্ত অপারেশনাল প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্প্রতি ইরানের পার্লামেন্টে একটি বিল পাস হয়েছে, যার আওতায় এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী নির্দিষ্ট কিছু জাহাজের কাছ থেকে ‘ট্রানজিট ফি’ বা টোল আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিপিং ইন্টেলিজেন্স সংস্থা ‘লয়েডস লিস্ট’-এর তথ্যমতে, ইরান ইতিমধ্যে সেখানে একটি ‘টোল বুথ’ ব্যবস্থা কার্যকর করেছে। অনেক জাহাজ এখন চীনা মুদ্রা (ইউয়ান) বা ইরানি রিয়ালে অর্থ পরিশোধ করে যাতায়াত করছে। তবে মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজের ওপর এই জলপথে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালীটি এর সরু ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে অত্যন্ত সংবেদনশীল, যার মূল জাহাজ চলাচলের পথটি মাত্র ২ মাইল প্রশস্ত। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলী ভায়েজ রয়টার্সকে বলেন, “ইরান বুঝতে পেরেছে যে হরমুজ প্রণালীর ওপর তাদের এই নিয়ন্ত্রণ পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও বেশি শক্তিশালী।” তিনি একে ‘ম্যাস ডিসরাপশন’ বা ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মঙ্গলবার রাতের সময়সীমা পার হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যি সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে এক অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। ট্রাম্পের আল্টিমেটাম বনাম ইরানের নতুন অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে বিশ্ব এখন এক চরম অনিশ্চয়তার প্রহর গুনছে।
Leave a comment