ভুয়া স্বাক্ষর ও স্ট্যাম্প জালিয়াতির মাধ্যমে ট্রান্সকম গ্রুপের বিপুলসংখ্যক শেয়ার আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এই আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ট্রান্সকম গ্রুপের ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সিমিন রহমান ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা লতিফুর রহমানের স্ত্রী মিসেস শাহনাজ রহমান এবং ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক সামসুজ্জামান পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, জাল স্বাক্ষর ও ভুয়া স্ট্যাম্প ব্যবহার করে শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে এই অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এ মামলায় মোট ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক এবং আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। শুনানি চলাকালে তাদের আইনজীবীরা স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। তবে সিমিন রহমান, মিসেস শাহনাজ রহমান এবং সামসুজ্জামান পাটোয়ারী আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন বিচারক।
আদালতের আদেশ অনুযায়ী, গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির বিষয়ে পরবর্তী অগ্রগতি জানাতে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। ওই তারিখে মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পরিকল্পিতভাবে ভুয়া স্বাক্ষর ও স্ট্যাম্প ব্যবহার করে ট্রান্সকম গ্রুপের শেয়ার হস্তান্তর সংক্রান্ত কাগজপত্র জাল করা হয় এবং এর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার আত্মসাৎ করা হয়। তদন্ত শেষে পিবিআই এই অভিযোগকে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত মনে করে ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
ট্রান্সকম গ্রুপ দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। খাদ্যপণ্য, ভোক্তা সামগ্রী, ওষুধ, গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন খাতে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বিস্তৃত। এমন একটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শেয়ার জালিয়াতির অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি ব্যবসায়ী মহল ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীরা আগেও দাবি করে আসছেন, এই অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পারিবারিক ও করপোরেট সম্পদ সংক্রান্ত বিরোধ থেকে উদ্ভূত। তারা আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের মাধ্যমে অভিযোগ খণ্ডনের আশা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, তদন্তকারী সংস্থা পিবিআই বলছে, মামলাটি সম্পূর্ণভাবে নথিপত্র ও প্রমাণের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং আদালতেই এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।
Leave a comment