টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় পানির ট্যাংকিতে পড়ে ৮ বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার ভাদাই গ্রামের একটি মসজিদের পানির ট্যাংকি থেকে শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শিশুটির নাম জুনায়েদ। সে ভাদাই গ্রামের শফিকুল ইসলামের একমাত্র ছেলে এবং স্থানীয় সোনামুই প্রি-ক্যাডেট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
রোববার সকালে প্রতিদিনের মতো মায়ের সঙ্গে স্কুলে যায় জুনায়েদ। ক্লাস চলাকালে তৃষ্ণা লাগায় সে কাউকে কিছু না জানিয়ে স্কুলের পাশের একটি মসজিদে থাকা টিউবওয়েলে পানি পান করতে যায়। মসজিদের ওই অংশে একটি বড় পানির ট্যাংক ছিল, যা ওজু ও অন্যান্য কাজে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত ছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ট্যাংকটি দীর্ঘদিন ধরেই খোলা অবস্থায় ছিল এবং এর চারপাশে কোনো নিরাপত্তাবেষ্টনী বা ঢাকনা ছিল না।
ধারণা করা হচ্ছে, পানি পান করার সময় অসাবধানতাবশত জুনায়েদ ওই খোলা ট্যাংকিতে পড়ে যায় এবং গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। সাঁতার না জানায় এবং আশপাশে কেউ না থাকায় সে নিজে থেকে বের হতে পারেনি।
ক্লাস শেষে জুনায়েদ স্কুলে ফিরে না আসায় শিক্ষকেরা প্রথমে ভেবেছিলেন সে হয়তো বাড়িতে চলে গেছে। কিন্তু পরে তার পরিবার জানায়, সে বাড়িতেও পৌঁছায়নি। তখন দ্রুত এলাকাজুড়ে খোঁজ শুরু হয়। নিখোঁজ শিশুটির সন্ধানে মাইকিং করা হয় এবং গ্রামবাসী আশপাশের মাঠ, রাস্তা ও জলাশয়ে খোঁজ চালাতে থাকেন।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টার টানা অনুসন্ধানের পর বিকেল পাঁচটার দিকে মসজিদের পানির ট্যাংকির ভেতরে তার নিথর দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে উদ্ধার করে দ্রুত নিকটবর্তী চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সোনামুই প্রি-ক্যাডেট স্কুলের পরিচালক আব্দুল হাকিম বলেন, “এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও হৃদয়বিদারক ঘটনা।
Leave a comment