ফরিদপুরে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া আওয়ামী লীগ নেতাকে জেলগেটে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করার ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা–সদরপুর–চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল কারামুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা ম. ম. সিদ্দিক মিঞাকে জেলগেটে স্বাগত জানান।
রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে ফরিদপুর জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান ভাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং আলগী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ম. ম. সিদ্দিক মিঞা। দীর্ঘ ১৭৫ দিন কারাগারে থাকার পর তিনি মুক্তি লাভ করেন।
কারামুক্তির পরপরই জেলগেটে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল। এ সময় তারা একে অপরকে ফুলের মালা পরিয়ে শুভেচ্ছা জানান। ঘটনাটি উপস্থিত নেতাকর্মী ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও আলোচনা সৃষ্টি করে।
মুক্তি পাওয়া ম. ম. সিদ্দিক মিঞা ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেতা। তিনি ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে অন্য সংসদীয় আসনে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়কারী ছিলেন।
নির্বাচন কমিশনের এক গেজেট অনুযায়ী ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নকে ফরিদপুর-৪ সংসদীয় আসন থেকে কেটে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা–সালথা) আসনে যুক্ত করা হয়। গত ৪ সেপ্টেম্বর এই সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়।
এর প্রতিবাদে আলগী ও হামিরদী ইউনিয়নের বাসিন্দারা আন্দোলনে নামে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে দুই দফায় মোট চার দিন ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে ভাঙ্গার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং স্থানীয় জনগণ সমর্থন জানায়।
আন্দোলনের একপর্যায়ে আলগী ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন চেয়ারম্যান ম. ম. সিদ্দিক মিঞা। সেখানে তিনি ১৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের সকাল–সন্ধ্যা মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
তবে কর্মসূচি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ১৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে আটক করে। পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে ফরিদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর দীর্ঘ ১৭৫ দিন কারাগারে থাকার পর অবশেষে রোববার তিনি জামিনে মুক্তি পান।
মুক্তি পাওয়ার পর ইউপি চেয়ারম্যান ম. ম. সিদ্দিক মিঞা বলেন, তার মুক্তির পেছনে আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য তিনি সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের প্রতি কৃতজ্ঞ।
তিনি বলেন, “আমার জেলমুক্তির জন্য নবনির্বাচিত এমপি শহিদুল ইসলাম বাবুল আইনি লড়াইয়ে সহযোগিতা করেছেন। এজন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ।”
অন্যদিকে সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলও বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। রোববার বিকেলে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে ইউনিয়ন রক্ষার আন্দোলনে গ্রেপ্তার হওয়া সবাইকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুক্ত করা হবে।
তিনি লেখেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমরা কথা দিয়েছিলাম ভাঙ্গার ইউনিয়ন রক্ষার আন্দোলনে গ্রেপ্তার আলগী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানসহ সবাইকে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে মুক্ত করব। আলহামদুলিল্লাহ আজকে সিদ্দিক চেয়ারম্যান মুক্ত হলেন। আমি জেলগেটে থেকে তাকে রিসিভ করলাম।”
Leave a comment