জামালপুরে ছেলে ও ছেলের বউয়ের মধ্যে দাম্পত্য কলহের জের ধরে শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের হামলায় ছেলের বাবা আব্দুল হাকিম (৫০) নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছেলের শ্বশুরসহ ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলার ঝাওলা গোপালপুর এলাকার আব্দুল হাকিমের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল হাকিম এক ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তানের জনক। ছেলে মো. শামীম মিয়া ময়মনসিংহের ভালুকা মাস্টারবাড়ি এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। সেখানে তিনি স্ত্রীকে সাথে নিয়েই থাকতেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বিগত প্রায় পাঁচ বছর আগে সদর উপজেলার নরুন্দি কচুনধরা এলাকার কাদিউর রহমানের মেয়ে কামরুন নাহারের সঙ্গে আব্দুল হাকিমের ছেলে শামীম মিয়ার বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় বিয়ের পর থেকেই বিরোধ চলে আসছে। বিষয়টির মীমাংসার জন্য গতকাল রাতে আব্দুল হাকিমের বাড়িতে সালিশ বসে। সালিশ বৈঠকের একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং বাক বিতন্ডার মধ্যেই শামীমের শ্বশুর ও তাঁর স্বজনেরা আব্দুল হাকিমকে মারধর করেন। পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করেছে।
নিহত আব্দুল হাকিমের ভাতিজা নয়ন মিয়া বলেন- গত মাসে শামীমের সঙ্গে একাধিকবার তার স্ত্রীর ঝগড়া বিবাদ হয়। ঈদের আগের দিন শামীম বাড়িতে আসলেও তার স্ত্রী মাঝপথ থেকেই বাপের বাড়িতে চলে যান। ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফিরে গেলে সেখানে তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ আরও বেশি হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে স্ত্রীকে আবার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসে শামীম। পরে তাঁর স্ত্রী বাবার বাড়িতে খবর দিলে গতকাল বুধবার ১০-১২ জন লোক আমাদের বাড়িতে আসেন। দুই পক্ষের কথাবার্তা চলার মধ্যেই কিছু বুঝে ওঠার আগেই চাচা, চাচি ও চাচাতো বোনের ওপর হামলা চালান তাঁরা। এতে গুরুতর আহত হয়ে চাচা আব্দুল হাকিম মারা যান।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন- খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ৬ জনকে আটক করেছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
Leave a comment