সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় সরকারি সড়কের ইট লুটপাটের অভিযোগে উপজেলা যুব জামায়াতের এক নেতাসহ ছয়জনকে আটক করেছে প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত টাস্কফোর্স বৃহস্পতিবার দিনভর অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে লুট হওয়া ইট উদ্ধার করে এবং সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করে।
আটকদের মধ্যে জকিগঞ্জ উপজেলা যুব জামায়াতের সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুল ইসলাম চৌধুরী রয়েছেন। অন্যদের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার কসকনকপুর ইউনিয়নের মুন্সিবাজার এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে রাস্তা থেকে তুলে নেওয়া বিপুল পরিমাণ ইট উদ্ধার করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে ২০২১ সালের দিকে কসকনকপুর ইউনিয়নের মুন্সিবাজার মাদ্রাসা থেকে উত্তর আইয়র বিজিবি ক্যাম্প পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়ক হেরিংবোন বন্ড পদ্ধতিতে প্রায় ১০ লাখ ইট দিয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে সুরমা নদীর বাঁধ সংস্কারের কাজের অংশ হিসেবে ওই সড়কে মাটি ভরাটের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। এ কারণে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে রাস্তার ইট খুলে সাময়িকভাবে মুন্সিবাজার মাদ্রাসার মাঠে সংরক্ষণের কথা ছিল।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সুযোগে রাতের অন্ধকারে বিপুল পরিমাণ ইট বিভিন্ন ব্যক্তি তুলে নিয়ে যান। গত বুধবার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আবু ইউসুফ মোহাম্মদ নামের এক ব্যক্তি ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে বলা হয়, সরকারি প্রকল্পের ওই সড়ক থেকে প্রায় ১৫ লাখ ইট অবৈধভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন, বিজিবি, পুলিশ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হওয়া অভিযানে মুন্সিবাজার মাদ্রাসা এলাকা থেকে উত্তর আইয়র পর্যন্ত বিভিন্ন বাড়ি ও রাস্তার পাশ থেকে কয়েক লাখ ইট উদ্ধার করা হয়। অভিযানের সময় ইট লুটের ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে ছয়জনকে আটক করা হয়।
ইউএনও মাসুদুর রহমান বলেন, রাস্তার ইটগুলো স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখার কথা ছিল। কিছু ইট এখনও সংরক্ষিত থাকলেও অধিকাংশ ইট লুট হওয়ার ঘটনা ঘটে। প্রশাসনের অভিযানে অনেক ইট উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে যুব জামায়াত নেতা মাহফুজুল ইসলাম চৌধুরীকে আটকের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইট লুটপাটের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন। বৃহস্পতিবারও তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছিলেন, “লড়াই চলবে, কোনো আপোষ নয়। সত্য সুন্দর এবার প্রমাণিত হবেই।”
উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি আবিদুর রহমান দাবি করেন, মাহফুজুল ইসলাম ইট লুট ঠেকানোর উদ্দেশ্যেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ইটগুলো যাতে নষ্ট না হয় এবং অন্য রাস্তায় কাজে লাগানো যায়—সেই উদ্দেশ্যে তিনি সেগুলো নিজের জিম্মায় রেখেছিলেন। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করলে ভুল বোঝাবুঝি হতো না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রাজ্জাক বলেন, সরকারি সড়কের ইট লুটের ঘটনায় ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a comment