গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দ্রুত কৌশলগত প্রাধান্য বজায় রাখে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এখন ধীরে ধীরে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ ইরানের দিকে সরে যাচ্ছে।
সম্প্রতি মোহসেন রেজায়ী বলেছেন, “যুদ্ধের শেষ আমাদের হাতে।” তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বাহিনী প্রত্যাহার এবং হামলায় ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিন সপ্তাহ আগে এ ধরনের আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করা প্রত্যাশিত ছিল না।
প্রসঙ্গত, ইসরাইলের আকস্মিক হামলার মাধ্যমে সংঘাতের শুরু। ওই হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এরপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিমান বাহিনী প্রায় সীমাহীনভাবে ইরানের আকাশে অভিযান চালায়। গভীর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা হাজারো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানলেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির বেশিরভাগই তাদের ভুলবশত হামলার ফলে হয়েছে।
ইরান ইসরাইলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এ পর্যন্ত ইসরাইলে ১২ জন নিহত হয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার সাফল্য কম হলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও অবকাঠামো বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে।
যুদ্ধের আরেকটি বড় পরিবর্তন হরমুজ প্রণালির বন্ধ হয়ে যাওয়া। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় পাঁচ ভাগ এই প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেলের দাম বেড়েছে এবং জ্বালানির মূল্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে জেরুজালেমের হিব্রু ইউনিভার্সিটির সামরিক ইতিহাসের অধ্যাপক ড্যানি অরবাখ মনে করেন, যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ এখনও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হাতে, কারণ তাদের কৌশল অনুযায়ী এজেন্ডা নির্ধারণের ক্ষমতা আছে
অন্যদিকে কিংস কলেজ লন্ডনের নিরাপত্তা অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক পিটার নিউম্যান বলেছেন, খারাপ পরিস্থিতিতেও ইরান নিজেদের সুবিধায় পরিস্থিতি ব্যবহার করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি মনে করেন, যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ এখন ধীরে ধীরে ইরানিদের হাতে চলে আসছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো দেশ সাড়া দেয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাহাজপথের নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত করা কঠিন। একটি ক্ষেপণাস্ত্র, একটি মাইন বা বিস্ফোরকভর্তি ছোট নৌযানও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এছাড়া আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে ছোট সংঘাতও বৃদ্ধি পেয়েছে। লেবাননে হিজবুল্লাহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়, যার জবাবে ইসরাইল ব্যাপক বিমান হামলা চালায়। এতে ৮০০ জনের বেশি নিহত এবং প্রায় ৮ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন, হিজবুল্লাহ টিকে থাকার চেষ্টা করছে, আর ইসরাইল তাদের সম্পূর্ণ নির্মূল করতে চায়। পরিস্থিতি যে কতটা জটিল, তা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে স্পষ্ট।
Leave a comment