ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে (আইএসএফ) সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, কাজাখস্তান, কসোভো এবং আলবেনিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর উদ্যোগে গঠিত তথাকথিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর বৈঠকে এ তথ্য জানিয়েছেন ভবিষ্যৎ গাজা স্থিতিশীলতা বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত মার্কিন জেনারেল জ্যাসপার জেফার্স।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অংশ নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো জানান, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার দেশ সর্বোচ্চ ৮ হাজার সেনা সদস্য পাঠাতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, এই মিশনের লক্ষ্য হবে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম জোরদার করা এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় সহায়তা প্রদান করা।
অন্যদিকে কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট টোকায়েভ জানিয়েছেন, তাদের পক্ষ থেকে সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি মেডিকেল ইউনিটও মোতায়েন করা হবে। মরক্কোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী নাসের বুরিতা বলেন, তার দেশ গাজায় পুলিশ সদস্য পাঠাতে প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী মিশর ও জর্ডান ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নিতে সম্মত হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের সেনারা কোনো ধরনের যুদ্ধ বা সশস্ত্র সংঘাতে অংশ নেবে না। বরং আন্তর্জাতিক আইন মেনে মানবিক সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহযোগিতা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে।
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। সমালোচকদের মতে, এই বাহিনী গঠনের মাধ্যমে গাজায় চলমান দখলদারিত্ব আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে পারে। ফিলিস্তিনিদের একাংশও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন, নতুন এই শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে গাজায় বিদ্যমান সংকট নিরসনের পরিবর্তে তা দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণ কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বহুজাতিক এই স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের উদ্যোগ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন নিরাপত্তা বাস্তবতার সূচনা করতে পারে, যা ভবিষ্যতে গাজা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ভূমিকাকে আরও জটিল করে তুলবে।

Leave a comment