গাইবান্ধা সদর উপজেলায় একটি মিশুক গাড়ি থেকে সাড়ে ৩ কেজি গাঁজা জব্দ করেছে র্যাব। এ সময় সেলিম মিয়া (৪৬) ও আবু তাহের (২৬) নামের দুই মাদক কারবারিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে র্যাব-১৩, গাইবান্ধা ক্যাম্পের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গাইবান্ধা সদর থানাধীন গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জগামী সড়কে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে সন্দেহভাজন একটি মিশুক গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হলে ভেতর থেকে সাড়ে ৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে জড়িত থাকার অভিযোগে ওই দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
গ্রেফতার সেলিম মিয়া লালমনিরহাট সদর উপজেলার ফুলগাছ গ্রামের বাসিন্দা এবং তিনি সলিম উদ্দিনের ছেলে। অপরদিকে, আবু তাহের গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি (ফারাজি পাড়া) গ্রামের মৃত আলম মিয়ার ছেলে বলে জানানো হয়েছে। র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাদক পরিবহন ও কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, উদ্ধার করা গাঁজাগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। মিশুক গাড়িটি ব্যবহার করে যাতে সহজে নজর এড়ানো যায়—সে উদ্দেশ্যেই এই যানবাহন বেছে নেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র্যাব কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মাদক কারবারিরা বিভিন্ন ধরনের ছোট যানবাহন ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের কৌশল গ্রহণ করছে, যা শনাক্ত করতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
র্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অধিনায়কের পক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি জানান, “গ্রেপ্তারকৃতদের, উদ্ধার করা আলামতসহ সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে র্যাব-১৩ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, মাদক চোরাচালান ও কারবার বন্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
Leave a comment