কাতারে বসবাসরত নিষিদ্ধঘোষিত দল আওয়ামী লীগের এক প্রবাসী নেতাকে গুরুতর অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক বিদেশি নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার পর তাকে অবৈধভাবে গর্ভপাত করানোর চেষ্টা এবং নিষিদ্ধ ওষুধ সেবন করিয়ে তার জীবন বিপন্ন করার অভিযোগে বর্তমানে কাতারের কারাগারে বন্দি রয়েছেন ইরফান মিয়া নামে ওই ব্যক্তি।
জানা গেছে, ইরফান মিয়া মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের রাঙ্গিছড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত রইছ মিয়ার ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে কাতারে বসবাস করে আসছিলেন এবং নিজেকে প্রবাসী ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেন।
প্রবাসী কমিউনিটি সূত্রে জানা যায়, কাতারে অবস্থানকালে ইরফান মিয়া নিজেকে একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি গেইল আল সাবুল ট্রেডিং সার্ভিসেস, মেটাফৌর কার সার্ভিস এবং মেটাফৌর ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাকটিং সার্ভিসেস নামে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক বলে দাবি করতেন। এই পরিচয়ের মাধ্যমে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন বলেও জানা গেছে।
কাতারের নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারী কাতারে বসবাসরত অন্য একটি দেশের নাগরিক। একটি সামাজিক অনুষ্ঠান অথবা ব্যবসায়িক যোগাযোগের মাধ্যমে তার সঙ্গে ইরফান মিয়ার পরিচয় হয়।
পরবর্তীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়ান তিনি। কিছুদিন পর নারীটি গর্ভবতী হলে ইরফান মিয়া তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দিতে শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
কাতারের আইন অনুযায়ী গর্ভপাত অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। সাধারণভাবে গর্ভপাত নিষিদ্ধ হলেও মায়ের জীবন ঝুঁকিতে পড়লে বিশেষ অনুমতির মাধ্যমে চিকিৎসকের পরামর্শে তা করা যেতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে অবৈধভাবে গর্ভপাতের ওষুধ সংগ্রহ করে ওই নারীকে সেবন করান ইরফান মিয়া। এর ফলে নারীর শরীরে গুরুতর জটিলতা দেখা দেয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে সন্দেহজনক মনে করে কাতারের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) বিষয়টি জানায়। পরবর্তীতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্তে ঘটনাটির সঙ্গে ইরফান মিয়ার সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি কাতারের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
কাতারের পেনাল কোড অনুযায়ী অবৈধ গর্ভপাত একটি গুরুতর অপরাধ। দেশটির আইনের ১৫১ থেকে ১৫৩ নম্বর ধারায় এ ধরনের অপরাধের জন্য কয়েক বছর থেকে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে অনেক সময় কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানা এবং সাজা শেষে দেশ থেকে বহিষ্কারের শাস্তিও দেওয়া হতে পারে বলে আইনি সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এদিকে কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, গর্ভপাতের ঘটনার বাইরে ইরফান মিয়ার বিরুদ্ধে প্রতারণার আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ আছে, কাতারে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে অনেকের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিভিন্ন ব্যক্তিকে ব্যবসায় অংশীদার করার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নেওয়া এবং চেক জালিয়াতির ঘটনাও সামনে এসেছে বলে দাবি করেছেন কমিউনিটির কয়েকজন সদস্য।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রবাসে বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং সামাজিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
Leave a comment