ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই এবার কিউবায় সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেলকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তিনি স্বেচ্ছায় ক্ষমতা ত্যাগ না করলে তাঁর দশা হবে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলো মাদুরোর মতো। উল্লেখ্য, মাদুরোকে মাদক চোরাচালানের অভিযোগে তাঁর দেশ থেকে আটক করে বর্তমানে আমেরিকার কারাগারে বন্দি রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, “আজকের আধুনিক পৃথিবীতে কমিউনিজমের কোনো স্থান নেই। এই মতবাদ প্রগতি ও উন্নতির পরিপন্থী।” সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প দম্ভভরে দাবি করেছেন যে তিনি খুব শীঘ্রই কিউবার নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্ষেত্রে তিনি যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার রাখেন।
মজার বিষয় হলো, ট্রাম্পের এই বিতর্কিত হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো যখন হাভানা ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গত ৬৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার টেবিলে মার্কিন প্রতিনিধি দল স্পষ্ট শর্ত দিয়েছে যে—মিগুয়েলকে সরতেই হবে এবং কিউবার নতুন নেতৃত্ব ঠিক করবে সে দেশের জনগণ।
অন্যদিকে, কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল আলোচনার টেবিলে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করলেও তিনি সমতা, মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো আপস করতে রাজি নন। এদিকে ট্রাম্পের নির্দেশে কিউবার ওপর জ্বালানি অবরোধ আরও কঠোর করা হয়েছে। ভেনেজুয়েলা থেকে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করার পাশাপাশি অন্যান্য দেশকেও কিউবাকে সাহায্য না করতে সতর্ক করেছে আমেরিকা।
ইতিহাস বলছে, গত কয়েক দশকে ডজনখানেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট কিউবায় শাসন বদলের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। এখন দেখার বিষয়, ট্রাম্পের এই নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ ও হুমকির মুখে কিউবার দীর্ঘস্থায়ী সমাজতান্ত্রিক কাঠামো কতটুকু টিকে থাকতে পারে।
Leave a comment