ইরানের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সুপ্রিম লিডার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফিকে ঘিরে দেশটির ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় আড়াই দশক ধরে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে গড়ে ওঠা এই ধর্মীয় আলেমকে তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের তালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছিল বলে জানা যায়।
খামেনির মৃত্যুর পর অন্তর্বর্তীকালীন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পেয়ে এখন রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি। তিনি শুধু একজন ধর্মীয় আলেমই নন, বরং গবেষক ও শিক্ষক হিসেবেও সুপরিচিত। ইরানের ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কুম শহরের আন্তর্জাতিক ইসলামিক শিক্ষাব্যবস্থার অন্যতম প্রধান স্থপতি হিসেবে তাঁর অবদান রয়েছে।
ধর্মীয় এই নগরী থেকেই ভবিষ্যৎ আয়াতুল্লাহ, বিচারক, চিন্তাবিদ এবং নীতিনির্ধারকদের গড়ে তোলা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, আরাফিকে বেছে নেওয়ার পেছনে তাঁর গভীর জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও আধ্যাত্মিক চর্চার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সুফি ঘরানার আধ্যাত্মিক সাধনা ‘ইরফান’-এর চর্চা তিনি খামেনির কাছ থেকেই শিখেছেন বলে জানা যায়।
আরাফি ইরানের ন্যানো প্রযুক্তি ও পারমাণবিক কার্যক্রমের বিনিয়োগ সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণেও যুক্ত ছিলেন এবং দেশটির শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মাতৃভাষার পাশাপাশি তিনি পাঁচটি ভাষায় পারদর্শী। একই সঙ্গে তিনি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ‘Assembly of Experts’-এর একজন সদস্য।
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি শিয়া আধ্যাত্মিক শিক্ষার কঠিন ধাপ ‘তাহযিবুন নফস’-এর চর্চা করে আসছেন, যার মধ্যে রয়েছে রাতের নফল ইবাদত, কুরআন গবেষণা এবং নৈতিক আত্মশুদ্ধির অনুশীলন। এছাড়া ইমাম মাহদীর আগমনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তিনি তাঁর মেধাবী ছাত্রদের নিয়ে কুম শহরে ফিকহ ও দর্শন বিষয়ে অধ্যয়ন করান এবং নিয়মিত ধ্যান ও আত্মসমালোচনার চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে গভীর অনুধাবন অর্জন করা আরাফি যুদ্ধকালীন সময়ে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের থিংক ট্যাংক হিসেবেও কাজ করেছেন বলে জানা যায়। পর্যবেক্ষকদের মতে, তাঁর আধ্যাত্মিক পথচলাই একসময় তাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে, যা ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Leave a comment