ভারতীয় সঙ্গীতের স্বর্ণযুগের শেষ দীপশিখাটি নিভে গেল। সুরের জাদুকরী মায়াজালে কোটি ভক্তকে আচ্ছন্ন করে রাখা কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলে আর নেই। রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে মুম্বাইয়ের বিখ্যাত ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। তার প্রয়াণের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সঙ্গীত ও সংস্কৃতির একটি বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে তিনি আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হন। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে মুম্বাইয়ের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকলেও শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে তিনি পরপারে পাড়ি জমান।
১৯৩৩ সালে জন্মগ্রহণ করা এই মহান শিল্পী আট দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় সঙ্গীত জগতকে শাসন করেছেন। কেবল হিন্দি সিনেমাই নয়, বাংলা, মারাঠি, গুজরাটিসহ বিশ্বের প্রায় ২০টিরও বেশি ভাষায় তিনি গান গেয়েছেন। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড অনুযায়ী, সঙ্গীত ইতিহাসে একক শিল্পী হিসেবে সর্বাধিক গান রেকর্ড করার কৃতিত্বও রয়েছে তার ঝুলিতে। ধ্রুপদী সঙ্গীত থেকে শুরু করে পপ, গজল কিংবা চটুল ক্যাবারে সং—সবক্ষেত্রেই তার কণ্ঠের অবাধ বিচরণ তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৮ সালে ভারত সরকার তাকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘পদ্মবিভূষণ’-এ ভূষিত করে। এর আগে ২০০০ সালে তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘দাদাসাহেব ফালকে’ পুরস্কার লাভ করেন। ‘দিল চিজ কেয়া হ্যায়’, ‘ইন আঁখোঁ কি মস্তি কে’, ‘পিয়া তু আব তো আজা’ কিংবা ‘দম মারো দম’-এর মতো অসংখ্য কালজয়ী গান আজও প্রতিটি প্রজন্মের শ্রোতাদের হৃদয়ে জীবন্ত হয়ে আছে।
আশা ভোঁসলের প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো উপমহাদেশে। ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ বিনোদন ও রাজনৈতিক জগতের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। ভক্তরা বলছেন, লতা মঙ্গেশকরের পর আশা ভোঁসলের প্রস্থান ভারতীয় সুরের ভুবন থেকে যেন শেষ অলংকারটিও কেড়ে নিল। আজ বিকেলেই মুম্বাইয়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
Leave a comment