দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার পেরু সীমান্তবর্তী অ্যামাজন অঞ্চলে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান কলম্বিয়া সরকারের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটিতে মোট ১২৫ জন আরোহী ছিলেন, যাদের মধ্যে বড় একটি অংশই ছিলেন দেশটির সেনা সদস্য। উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থল থেকে ৩৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। এছাড়া ৭৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের অনেকেরই শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক, ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখনও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের উদ্ধারে দুর্গম অঞ্চলে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হওয়া বিমানটি মার্কিন প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের ‘হারকিউলিস সি-১৩০’ (C-130) মডেলের। উড্ডয়নের পরপরই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি ভূপাতিত হয় এবং মুহূর্তেই তাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে দেশটির বিমান বাহিনী ও সিভিল এভিয়েশন অথরিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
উল্লেখ্য , দক্ষিণ আমেরিকার আকাশে সামরিক বিমান দুর্ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে বলিভিয়ান বিমান বাহিনীর একটি একই মডেলের (হারকিউলিস সি-১৩০) বিমান দেশটির জনবহুল আল্টো শহরে বিধ্বস্ত হয়েছিল। সেই দুর্ঘটনায় ২০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং ৩০ জন আহত হন। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে কলম্বিয়ায় একই ধরনের ঘটনা আঞ্চলিক আকাশপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
Leave a comment