ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদসহ দুইজনকে ১৪ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) তাদের গ্রেপ্তার করার পর আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রোববার (৮ মার্চ) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁও সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গোপন সূত্রের মাধ্যমে তারা জানতে পারে যে দুই বাংলাদেশি নাগরিক একটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার পর অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছে এবং আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সীমান্ত এলাকায় অবস্থান করছে।
এই তথ্য পাওয়ার পরই শনিবার (৭ মার্চ) গভীর রাতে বনগাঁওয়ের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চালিয়ে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের একজনের নাম ফয়সাল করিম মাসুদ এবং অপরজন আলমগীর হোসেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এসটিএফের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে রাহুল নামেও পরিচিত ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যা সঙ্গে জড়িত।
হত্যাকাণ্ডের পর তারা বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যায় এবং মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে। এরপর তারা ভারতের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে আত্মগোপনে ছিল।
পুলিশের তথ্যমতে, কিছুদিন বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করার পর তারা আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করে এবং সেই উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁও সীমান্ত এলাকায় আসে। ঠিক সেই সময়ই পুলিশের অভিযানে তারা ধরা পড়ে।
ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
Leave a comment