Home আন্তর্জাতিক এপস্টিন কেলেঙ্কারিতে ব্রিটিশ রাজপরিবারে নতুন ঝড়
আন্তর্জাতিক

এপস্টিন কেলেঙ্কারিতে ব্রিটিশ রাজপরিবারে নতুন ঝড়

Share
Share

ব্রিটিশ রাজপরিবার আবারও বড় ধরনের বিতর্কের মুখে পড়েছে সাবেক রাজপুত্র প্রিন্স অ্যান্ড্রু-কে এপস্টিন সংশ্লিষ্ট অসদাচরণের অভিযোগে গ্রেপ্তারের ঘটনায়। যুক্তরাজ্যের রাজা চার্লস তৃতীয়-এর ভাই অ্যান্ড্রুকে বৃহস্পতিবার কয়েক ঘণ্টা পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়, যা গত সাড়ে তিনশ বছরে কোনো ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্যের গ্রেপ্তারের প্রথম ঘটনা হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী ও বিতর্কিত অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টিন-এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের জেরে তার বিরুদ্ধে এই তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, নব্বইয়ের দশকে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় ভার্জিনিয়া জিউফ্রে-কে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় এপস্টিন ও অ্যান্ড্রু উভয়েই জড়িত ছিলেন। ২০২১ সালে দায়ের করা এক দেওয়ানি মামলায় জিউফ্রে দাবি করেন, ১৭ বছর বয়সে তাকে একাধিকবার অ্যান্ড্রুর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে বাধ্য করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আদালতের বাইরে সমঝোতার মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়।

অ্যান্ড্রুর রাজকীয় উপাধি গত বছরই প্রত্যাহার করা হয়েছিল এপস্টিন-যোগসূত্র ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে। ২০০১ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে এই সময়েই বিদেশ সফরে বিলাসবহুল জীবনযাপন, করদাতাদের অর্থে ব্যয়বহুল আতিথেয়তা গ্রহণ এবং ‘পার্টি প্রিন্স’ ইমেজ নিয়ে বিতর্ক বাড়তে থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই গ্রেপ্তারি ঘটনা ব্রিটিশ রাজপরিবারের দীর্ঘদিনের কেলেঙ্কারির ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যুক্ত করল। ১৯৩৬ সালে এডওয়ার্ড অষ্টম-এর সিংহাসন ত্যাগ থেকে শুরু করে নব্বইয়ের দশকে ডায়ানা স্পেন্সার-কে ঘিরে ব্যক্তিগত সম্পর্কের অডিও ফাঁস, ১৯৯৫ সালে তার বহুল আলোচিত বিবিসি সাক্ষাৎকার এবং ১৯৯৭ সালে প্যারিসে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর রাজপরিবারের নীরবতা—প্রতিটি ঘটনাই প্রতিষ্ঠানটির জনসমর্থনে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছিল।

২০০৫ সালে নাৎসি পোশাক পরে পার্টিতে অংশ নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েন প্রিন্স হ্যারি। পরে ২০২০ সালে স্ত্রী মেগান মার্কেল-কে নিয়ে রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি, যা ‘মেগজিট’ নামে পরিচিতি পায় এবং রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারি শুধু ব্যক্তিগত বিতর্ক নয়, বরং ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। এপস্টিন কেলেঙ্কারি ঘিরে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই রাজপরিবারের ভাবমূর্তি নিয়ে দেশ-বিদেশে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

সকাল ১০টায় শপথ, এমপিদের বরণে প্রস্তুত সংসদ ভবন

দেড় বছরের বিরতির পর আবারও রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিকতায় মুখর হতে যাচ্ছে রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে নতুন নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের...

বিদায়ী ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা, ‘জুলাই সনদ’ অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে একটি উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দেশবাসীকে...

Related Articles

গাজায় শান্তি ফেরাতে সেনা পাঠাবে পাঁচ মুসলিম দেশ

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে (আইএসএফ) সেনা পাঠানোর ঘোষণা...

যেভাবে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ভয় ও বিদ্বেষ উসকে দিচ্ছেন সদগুরু

ভারতের প্রভাবশালী আধ্যাত্মিক বক্তা জগ্গী বাসুদেব, যিনি ‘সদগুরু’ নামেই অধিক পরিচিত, সাম্প্রতিক...

এলিয়েনদের গোপন নথি প্রকাশে ট্রাম্পের নির্দেশ!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেন্টাগনসহ ফেডারেল সংস্থাগুলোকে অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু (ইউএফও) এবং...

মাহে রমজান: নেক আমলের বসন্তকাল

মানুষের জীবনে যেমন বসন্ত এসে প্রকৃতিকে নব রূপে সজ্জিত করে, তেমনি মাহে...