ঈদ শুধু আনন্দ-উৎসবের দিন নয়; এটি সুন্নত অনুসরণ, ইবাদত বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য জোরদারেরও এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
মুসলিম উম্মাহর জন্য ঈদ আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের এক অনন্য দিন। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে ঈদুল ফিতর, যা মুমিনদের জন্য পুরস্কারের বার্তা বহন করে। তাই এ দিনটি কেবল উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সুন্নত অনুযায়ী জীবনযাপন, ইবাদতে মনোযোগ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করার সুযোগও বটে।
নিচে ঈদের দিনের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো—
১. গোসল ও পরিচ্ছন্নতা
ঈদের দিন সকালে গোসল করে পরিচ্ছন্ন হওয়া মুস্তাহাব। সাহাবায়ে কেরাম এ আমল করতেন।
২. উত্তম পোশাক ও সাজসজ্জা
ঈদের দিন নিজের সাধ্যমতো উত্তম পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব।
৩. সদকাতুল ফিতর আদায়
ঈদুল ফিতরের দিন যাদের নিসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাদের ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব।
৪. ঈদগাহে যাওয়ার আগে খেজুর খাওয়া
ঈদুল ফিতরের দিন রোজা রাখা নিষিদ্ধ, তাই এর প্রকাশ হিসেবে ঈদগাহে যাওয়ার আগে কিছু খাওয়া মুস্তাহাব।
৫. বেশি বেশি তাকবির পাঠ
ঈদের দিন তাকবির পাঠ করা সুন্নত।
৬. ভিন্ন পথে যাতায়াত
ঈদের নামাজে যাওয়ার সময় এক পথে যাওয়া এবং ফেরার সময় অন্য পথে আসা সুন্নত।
৭. পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া
সম্ভব হলে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া উত্তম।
৮. ঈদের নামাজ আদায়
ঈদের নামাজ দুই রাকাত ওয়াজিব, যা জামাতে আদায় করতে হয়।
৯. একে অপরের জন্য দোয়া
ঈদের দিনে একে অপরের জন্য দোয়া করা উত্তম।
১০. ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়
‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’, ‘ঈদ মোবারক’ ইত্যাদি বলে শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়।
১১. এতিম ও অভাবীদের সহযোগিতা
ঈদের দিনে এতিম ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১২. আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া
এ দিন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়া এবং তাদের সঙ্গে সময় কাটানো উচিত।
১৩. মনোমালিন্য দূর করা
ঈদ পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার একটি উত্তম সময়।
১৪. আনন্দ প্রকাশ করা
ইসলাম বৈধ আনন্দকে সমর্থন করে, তাই ঈদের দিনে আনন্দ প্রকাশ করা বৈধ।
ঈদের দিনের বর্জনীয়
১. রোজা রাখা
ঈদুল ফিতরের দিন রোজা রাখা হারাম।
২. বিজাতীয় অনুকরণ
অমুসলিমদের সংস্কৃতি অন্ধভাবে অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
৩. খোলামেলা পোশাক
অশালীন বা খোলামেলা পোশাক পরিধান থেকে বিরত থাকা উচিত।
৪. অপচয় ও অপব্যয়
অপ্রয়োজনীয় খরচ ও অপচয় থেকে বিরত থাকতে হবে।
৫. মদ, জুয়া ও আতশবাজি
এসব শরিয়তবিরোধী কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।
ঈদের দিনটি যেন শুধু বাহ্যিক আনন্দে সীমাবদ্ধ না থেকে ইবাদত, মানবিকতা ও সুন্নতের আলোকে উদযাপিত হয়—এটাই হওয়া উচিত প্রতিটি মুসলমানের লক্ষ্য।
Leave a comment