Home ধর্ম ও জীবন ইসলাম ঈদের দিনে না জেনে হারাম কাজ করছেন না তো?
ইসলামধর্ম ও জীবন

ঈদের দিনে না জেনে হারাম কাজ করছেন না তো?

Share
Share

ঈদ শুধু আনন্দ-উৎসবের দিন নয়; এটি সুন্নত অনুসরণ, ইবাদত বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য জোরদারেরও এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।

মুসলিম উম্মাহর জন্য ঈদ আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের এক অনন্য দিন। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আসে ঈদুল ফিতর, যা মুমিনদের জন্য পুরস্কারের বার্তা বহন করে। তাই এ দিনটি কেবল উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সুন্নত অনুযায়ী জীবনযাপন, ইবাদতে মনোযোগ এবং পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করার সুযোগও বটে।

নিচে ঈদের দিনের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো—

১. গোসল ও পরিচ্ছন্নতা
ঈদের দিন সকালে গোসল করে পরিচ্ছন্ন হওয়া মুস্তাহাব। সাহাবায়ে কেরাম এ আমল করতেন।

২. উত্তম পোশাক ও সাজসজ্জা
ঈদের দিন নিজের সাধ্যমতো উত্তম পোশাক পরিধান করা মুস্তাহাব।

৩. সদকাতুল ফিতর আদায়
ঈদুল ফিতরের দিন যাদের নিসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাদের ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব।

৪. ঈদগাহে যাওয়ার আগে খেজুর খাওয়া
ঈদুল ফিতরের দিন রোজা রাখা নিষিদ্ধ, তাই এর প্রকাশ হিসেবে ঈদগাহে যাওয়ার আগে কিছু খাওয়া মুস্তাহাব।

৫. বেশি বেশি তাকবির পাঠ
ঈদের দিন তাকবির পাঠ করা সুন্নত।

৬. ভিন্ন পথে যাতায়াত
ঈদের নামাজে যাওয়ার সময় এক পথে যাওয়া এবং ফেরার সময় অন্য পথে আসা সুন্নত।

৭. পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া
সম্ভব হলে পায়ে হেঁটে ঈদগাহে যাওয়া উত্তম।

৮. ঈদের নামাজ আদায়
ঈদের নামাজ দুই রাকাত ওয়াজিব, যা জামাতে আদায় করতে হয়।

৯. একে অপরের জন্য দোয়া
ঈদের দিনে একে অপরের জন্য দোয়া করা উত্তম।

১০. ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়
‘তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা’, ‘ঈদ মোবারক’ ইত্যাদি বলে শুভেচ্ছা বিনিময় করা যায়।

১১. এতিম ও অভাবীদের সহযোগিতা
ঈদের দিনে এতিম ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১২. আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া
এ দিন আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের খোঁজ নেওয়া এবং তাদের সঙ্গে সময় কাটানো উচিত।

১৩. মনোমালিন্য দূর করা
ঈদ পারস্পরিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার একটি উত্তম সময়।

১৪. আনন্দ প্রকাশ করা
ইসলাম বৈধ আনন্দকে সমর্থন করে, তাই ঈদের দিনে আনন্দ প্রকাশ করা বৈধ।

ঈদের দিনের বর্জনীয়

১. রোজা রাখা
ঈদুল ফিতরের দিন রোজা রাখা হারাম।

২. বিজাতীয় অনুকরণ
অমুসলিমদের সংস্কৃতি অন্ধভাবে অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

৩. খোলামেলা পোশাক
অশালীন বা খোলামেলা পোশাক পরিধান থেকে বিরত থাকা উচিত।

৪. অপচয় ও অপব্যয়
অপ্রয়োজনীয় খরচ ও অপচয় থেকে বিরত থাকতে হবে।

৫. মদ, জুয়া ও আতশবাজি
এসব শরিয়তবিরোধী কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।

ঈদের দিনটি যেন শুধু বাহ্যিক আনন্দে সীমাবদ্ধ না থেকে ইবাদত, মানবিকতা ও সুন্নতের আলোকে উদযাপিত হয়—এটাই হওয়া উচিত প্রতিটি মুসলমানের লক্ষ্য।

 

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

৬৫ বছর পর কঙ্গোর প্রথম প্রধানমন্ত্রী লুমুম্বা হত্যার বিচার শুরু

আফ্রিকার কিংবদন্তি নেতা এবং কঙ্গোর প্রথম গণতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিস লুমুম্বার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ৬৫ বছর পর ন্যায়বিচারের পথ প্রশস্ত হলো। বেলজিয়ামের একটি আদালত...

লারিজানি হত্যা : ইসরায়েলের শতাধিক সামরিক স্থাপনায় ইরানের হামলা

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে । ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাবেক...

Related Articles

যেভাবে শুরু হয় মুসলমানদের ঈদ উদযাপন

বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পরিচিত ঈদুল ফিতর ও ঈদুল...

আল-আকসায় ঈদের নামাজ আদায়ে ইসরায়েলি বাধা, গাজায় ধ্বংসস্তূপে ঈদ পালন

এক অসহনীয় বিষণ্ণতা আর ধর্মীয় আবেগের সংমিশ্রণে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করছে...

দেশের আকাশে শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায়নি, ঈদ শনিবার

বাংলাদেশের আকাশে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ১৪৪৭ হিজরি সনের পবিত্র শাওয়াল মাসের...

জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ পড়বেন প্রধানমন্ত্রী

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দেশের পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে নামাজ...