মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাজ্যের বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর প্রয়োজন নেই।
শনিবার (৭ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের একটি বিমানবাহী রণতরি প্রস্তুত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটির দুটি প্রধান বিমানবাহী রণতরির একটি—এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলস—পূর্ণ প্রস্তুতিতে রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সেটিকে দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাজ্য তার সামরিক সক্ষমতা প্রস্তুত রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের প্রস্তুতি সাধারণত সম্ভাব্য সামরিক পরিস্থিতির জন্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে নেওয়া হয়, যাতে প্রয়োজনে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব হয়।
তবে যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপের পরপরই ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি তার পোস্টে যুক্তরাজ্যকে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে উল্লেখ করলেও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের রণতরি মোতায়েনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
ট্রাম্প লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের “এককালের মহান মিত্র যুক্তরাজ্য(সম্ভবত আমাদের সব মিত্রের মধ্যে সেরা) এখন মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।”
তবে একই পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমানে সেই সহায়তার প্রয়োজন নেই। তার ভাষায়, “আমাদের আর এগুলোর প্রয়োজন নেই।”
পোস্টে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকেও পরোক্ষভাবে সমালোচনা করেন ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, “ঠিক আছে, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। আমাদের আর এগুলোর দরকার নেই। তবে আমরা বিষয়টি মনে রাখব।”
ট্রাম্প আরও বলেন, তিনি এমন সহযোগিতা পছন্দ করেন না যেখানে কোনো দেশ যুদ্ধ প্রায় শেষ হওয়ার পর এসে যুক্ত হতে চায়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, “আমরা এমন মানুষ চাই না, যারা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যখন আমরা ইতিমধ্যে জিতেছি, তখন যোগ দেয়।”
এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যগত সামরিক সহযোগিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠ সামরিক ও কৌশলগত মিত্র হিসেবে পরিচিত। ন্যাটো জোটের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযানে দুই দেশ প্রায়ই একসঙ্গে কাজ করেছে।
মধ্যপ্রাচ্যেও অতীতে ইরাক যুদ্ধসহ বিভিন্ন অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ উপস্থিতি দেখা গেছে। তাই চলমান ইরান সংকটেও দুই দেশের সমন্বয় থাকবে বলে অনেকেই ধারণা করেছিলেন।
তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই প্রত্যাশা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা
Leave a comment