হোয়াইট হাউসে প্রত্যাবর্তনের এক বছরের মাথায় জনপ্রিয়তার চরম সংকটে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থায় তার জনসমর্থনে নজিরবিহীন ধস লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন (CNN) ও ইউগভ (YouGov)-এর সাম্প্রতিক জনমত জরিপে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য—ট্রাম্পের নিজস্ব ভোটারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন তাদের নির্বাচনী সিদ্ধান্ত নিয়ে ‘অনুশোচনা’ (Voter Regret) প্রকাশ করছেন।
জরিপের উপাত্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, যারা ২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে প্রায় ১৬ শতাংশ ভোটার এখন মনে করছেন যে তারা পুনরায় সুযোগ পেলে তাকে ভোট দেবেন না। বিশেষ করে ৩০ বছরের কম বয়সী তরুণ এবং হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যে এই পরিবর্তনের হার সবচেয়ে বেশি। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে যেখানে ৭৪ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রতি ‘অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী’ ছিলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা মাত্র ৬২ শতাংশে নেমে এসেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের এই অসন্তোষের মূলে রয়েছে দুটি প্রধান কারণ: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ এবং দেশের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়। সিএনএন-এর জরিপ বলছে, ট্রাম্পের নিজ সমর্থকদের ২৮ শতাংশ সরাসরি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের বিরোধী এবং ৪৫ শতাংশ ভোটার জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম বৃদ্ধির কারণে প্রেসিডেন্টের ওপর নাখোশ।
সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, ট্রাম্পের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে পরিচিত ‘শ্বেতাঙ্গ কর্মজীবী’ (White Working Class) ভোটারদের মধ্যেও ফাটল ধরেছে। এই শক্তিশালী ভোটব্যাংকে তার গ্রহণযোগ্যতা ৬৩ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে ৪৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের এই মুখ ফিরিয়ে নেওয়া রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় ধরনের অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদি পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প প্রশাসন বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Leave a comment