যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক বৈঠকটি কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে এই আলোচনাকে ‘পুরোপুরি ব্যর্থ’ বলতে নারাজ কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। পাকিস্তানের প্রভাবশালী ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য ডন’-এর সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ এই বৈঠক থেকে বড় কোনো অগ্রগতি না এলেও দুই পক্ষের উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণ কূটনৈতিক পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রোববার ইসলামাবাদ থেকে দুই দেশের প্রতিনিধিদল নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে গেলেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় কার্যকর থাকা দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে। ডন-এর মতে, এটি একটি ইতিবাচক দিক, কারণ এর ফলে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর ঝুঁকি এড়ানো গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে পার্লামেন্ট স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই আলোচনায় নেতৃত্ব দেন। ভ্যান্স এই অবস্থাকে ‘খারাপ খবর’ হিসেবে বর্ণনা করলেও ইরান মনে করে, এক বৈঠকে সব সমস্যার সমাধান প্রত্যাশা করা অবাস্তব।
সম্পাদকীয়তে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে বিশাল দূরত্ব রয়েছে, তা কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে ঘোচানো সম্ভব নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকিমূলক বক্তব্যের সমালোচনা করে বলা হয়েছে, আমেরিকা যদি ইরানকে দমনে কেবল চাপ প্রয়োগের নীতিতে অনড় থাকে, তবে তা ব্যর্থ হতে বাধ্য।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং আগের দফার মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান—উভয়ই যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে। আঞ্চলিক শক্তিগুলোর আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি ও বাণিজ্য প্রবাহ ব্যাহত হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়বে।
ডন-এর সম্পাদকীয়তে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, আস্থা তৈরির প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা জরুরি। যদি যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের হুমকি থেকে সরে আসে, তবেই দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ প্রশস্ত হতে পারে। শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন কি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে, নাকি কূটনৈতিক নমনীয়তা দেখাবে—তার ওপরই নির্ভর করছে আগামীর বিশ্ব রাজনীতি।
তথ্যসূত্র : দ্য ডন
Leave a comment