ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া তরুণ এরফান সোলতানিকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
২৬ বছর বয়সী সোলতানিকে সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গ্রেপ্তার করা হয়। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হেংগাও এক বিবৃতিতে জানায়, শনিবার তাকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তার আইনজীবী আমির মুসাখানি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, সোলতানির মুক্তির জন্য তার পরিবারকে প্রায় দুই বিলিয়ন ইরানি তুমান—প্রায় ১৬ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ—জামিন দিতে হয়েছে।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তির সময় সোলতানির ব্যক্তিগত জিনিসপত্র, এমনকি মোবাইল ফোনও তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। তবে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
গত মাসে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে খবর ছড়িয়ে পড়ে যে সোলতানিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই দাবির পর মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দেয়। তবে পরবর্তীতে ইরানের কর্তৃপক্ষ জানায়, তার বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়নি। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভি এক প্রতিবেদনে দাবি করে, কিছু বিদেশি গণমাধ্যম তাকে ভুলভাবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
ইরানের বিচার বিভাগ এর আগে জানায়, সোলতানির বিরুদ্ধে ‘জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে সমাবেশ ও যোগসাজশ’ এবং ‘রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রচারণা’ চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। এই ধরনের অভিযোগ সাধারণত রাজনৈতিক বিক্ষোভ ও মতপ্রকাশের ঘটনাগুলোর সঙ্গে যুক্ত করে আনা হয় বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর সোলতানিকে দীর্ঘ সময় আইনজীবীর সহায়তা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। তার পরিবারের সদস্যদেরও বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। এমনকি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কায় পরিবারকে মাত্র একবার সংক্ষিপ্ত সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলেও সংগঠনগুলোর বিবৃতিতে উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
সোলতানির পরিবার দাবি করেছে, তিনি কোনো সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি কেবল শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশ ও মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত দাবিতে অংশ নিয়েছিলেন। এই দাবির সঙ্গে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর বক্তব্যের মিল থাকলেও, রাষ্ট্রীয় সূত্রগুলো বিক্ষোভকে “বিদেশি-সমর্থিত দাঙ্গা” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা ইরানে রাজনৈতিক মামলাগুলোর স্বচ্ছতা ও তথ্যপ্রবাহ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বহুবার অভিযোগ করেছে, রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার, বিচার ও শাস্তির তথ্য প্রায়ই অস্পষ্ট থাকে এবং পরিবার ও আইনজীবীদের তথ্যপ্রাপ্তি সীমিত হয়।
Leave a comment