
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যদি নিঃশর্তভাবে আত্মসমর্পণ করে এবং নতুন গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দেশটির অর্থনীতি পুনর্গঠনে সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে আত্মসমর্পণের আগে কোনো ধরনের সমঝোতা বা চুক্তির প্রশ্নই ওঠে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৬ মার্চ) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ট্রাম্পের এই বক্তব্য তুলে ধরা হয়। এতে তিনি বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক অস্থিরতার উৎস হয়ে রয়েছে এবং বর্তমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে হলে দেশটির নেতৃত্বকে প্রথমে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে হবে।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণের মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ইরানের অর্থনীতি পুনর্গঠন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় দেশটিকে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে সহায়তা করতে পারে।
এরই মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা জোরদার করেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মাধ্যমে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
চলমান এই সংঘাত ইতোমধ্যে বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে এখন পর্যন্ত এক হাজার দুইশোর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া লেবানন-এ শতাধিক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে এবং ইসরায়েলেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। সংঘাতে কয়েকজন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবরও প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনসভা মার্কিন কংগ্রেস-এ যুদ্ধ বন্ধ করার একটি প্রস্তাব ভোটে পরাজিত হয়েছে। ফলে প্রেসিডেন্টের সামরিক অভিযান আপাতত অব্যাহত রাখার পথ খোলা রয়েছে।
ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী যদি অস্ত্র নামিয়ে না রাখে তবে তারা নিশ্চিত ধ্বংসের মুখে পড়বে। তবে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিলে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
Leave a comment