উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু এই বিমানগুলো এমন শত্রুর মোকাবিলার জন্য তৈরি হয়নি, যার সঙ্গে তারা আজ লড়ছে। মূলত ইরান থেকে নেমে আসা ধীরগতির ও নিচু উচ্চতায় উড়া হাজারো ড্রোন ধ্বংস করতেই এই বিমানগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিমানের মাধ্যমে ড্রোন প্রতিহত করা কার্যকর হলেও এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। উদাহরণস্বরূপ, একটি শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের দাম ২০ থেকে ৫০ হাজার ডলার, যেখানে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের এক ঘণ্টার খরচ ২৫ হাজার ডলারের বেশি। এছাড়া, AIM-9X সাইডউইন্ডার বা AIM-120 অ্যামরামের মতো ক্ষেপণাস্ত্রের দাম লক্ষাধিক ডলার, যা ছোট ড্রোন ধ্বংসের তুলনায় অতি ব্যয়বহুল।
উপসাগরীয় দেশগুলো এখন এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি, যেখানে কম খরচের ড্রোন মোকাবিলার জন্য লাখ লাখ ডলারের সামরিক বাজেট ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি হিসেবে এই কৌশল কার্যকর হবে না। স্টিমসন সেন্টারের গবেষক কেলি গ্রিকো বলেন, ‘এ ধরনের অভিযান বিমানবাহিনীর জন্য ক্লান্তিকর এবং বড় ধরনের রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন তৈরি করে।’
ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অন্যান্য দেশ বর্তমানে লেজারভিত্তিক ও বিশেষায়িত ড্রোন প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যবহার করার দিকে নজর দিচ্ছে। এছাড়া ইউক্রেন থেকে বিশেষজ্ঞ দল ও ইন্টারসেপ্টর ড্রোন আনা হয়েছে, যা তুলনামূলকভাবে কম খরচে ড্রোন প্রতিহত করতে সাহায্য করছে।
খরচ ও ঝুঁকির পাশাপাশি যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা সীমিত। ধীরগতির ও ছোট ড্রোন শনাক্ত করতে উন্নত রাডার ও সেন্সর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হচ্ছে। তবু, একাধিক সস্তা ড্রোন মোকাবিলায় যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভর করা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়।
অ্যানাতোলি খ্রাপচিনস্কি, ‘ফ্লাই গ্রুপ’ এর জ্যেষ্ঠ নির্বাহী বলেন, ‘যুদ্ধবিমান আপনার প্রতিরক্ষার অংশ হতে পারে; কিন্তু ভিত্তি নয়। যদি শত্রু শত শত সস্তা ড্রোন ছোড়ে আর আপনি লাখ লাখ ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেন, তবে এটি দীর্ঘমেয়াদে কাজ করবে না।’
Leave a comment