ইরানের প্রভাবশালী নেতা ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন—এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে তেহরান। বুধবার (১৮ মার্চ) ভোররাতের দিকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর বিষয়টি স্বীকার করে ইরান সরকার।
রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে বলা হয়, দেশ ও ইসলামী বিপ্লবের স্বার্থে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালনের পর লারিজানি “শহীদত্ব” বরণ করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে লারিজানিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে ইসরায়েল। প্রথমে ইসরায়েলি সূত্র থেকেই তার মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়। পরে প্রায় একদিন পর ইরান সরকার তা নিশ্চিত করে।
লারিজানি ইরানের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি একসময় সংসদের স্পিকার ছিলেন এবং পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। সর্বশেষ তিনি তেহরানে আল-কুদস দিবসের সমাবেশে অংশ নেন।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এ হামলাকে ইরানের ক্ষমতাসীন কাঠামো দুর্বল করার কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন, ধাপে ধাপে ইরানি জনগণের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর লারিজানি কার্যত দেশের নেতৃত্বে আসেন। তার মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Leave a comment