ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন—এমন খবরে দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। বর্তমান কর্তৃপক্ষ তাঁর দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। একই হামলায় তাঁর স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তে বাঘেরজাদেহও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে কালো পতাকা উত্তোলন ও শোকানুষ্ঠানের প্রস্তুতির খবর পাওয়া গেছে। বহু মানুষ তাদের প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখার আকুতি প্রকাশ করছেন।
উত্তর-পূর্ব ইরানের শহর মাশহাদে ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হোসেইন দাদবাখশ খামেনির প্রতি গভীর আনুগত্য প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষায়, “ইরান ইমামের হত্যার প্রতিশোধ নেবে। আমি ইসলাম ও ইমাম খামেনির জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত।”
তিনি আরও বলেন, “ইহুদিবাদী সরকার ও ট্রাম্পকে আমার নেতার শাহাদাতের জন্য চরম মূল্য দিতে হবে।” এ ধরনের প্রতিক্রিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে অনেকেই খামেনিকে ‘শহীদ’ আখ্যা দিয়ে প্রতিশোধের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, মধ্য ইরানের শহর শিরাজ-এর এক স্কুলশিক্ষিকা আতৌসা মির্জাদে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, বিদেশি শক্তির হাতে সর্বোচ্চ নেতার নিহত হওয়ার খবর তাকে আনন্দিত করতে পারে না।
তিনি বলেন, “আমরা জানি না দেশের কী হবে। ইরাকে বিশৃঙ্খলা ও রক্তপাত আমরা দেখেছি। আমরা তেমন কোনো সরকার ইরানে দেখতে চাই না।”
খামেনির মৃত্যু সংক্রান্ত এই দাবি ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। সর্বোচ্চ নেতার পদ দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু। ফলে নেতৃত্বের পরিবর্তন প্রশ্নে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ ঐক্য, নিরাপত্তা এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করা ইরানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
Leave a comment