যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসার আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে সাময়িক বিরতি দিয়েছে। দেশটির চলমান অভিবাসনবিরোধী কঠোর অভিযানের মধ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র মঙ্গলবার বলেন, বিশ্বের সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভিসা সেবার সাক্ষাৎকারের সময়সূচি সমন্বয় করা হবে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিস্তারিত বা এর মেয়াদ সম্পর্কে কিছু জানায়নি। তবে তারা বলেছে, এই প্রশিক্ষণের লক্ষ্য হলো এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করতে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের সহায়তা করা, যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে ভিসা আবেদনকারীদের ‘সামগ্রিক ও সঙ্গতিপূর্ণভাবে’ মূল্যায়ন নিশ্চিত করাও এর উদ্দেশ্য।
ভিসা সাক্ষাৎকারের সময়সূচিতে এই বিরতির খবর প্রথম প্রকাশ করে ফিন্যানশিয়াল টাইমস। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে সাক্ষাৎকার নির্ধারিত থাকা অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের ই-মেইল পাঠানো হয়েছে। এতে জানানো হয়েছে, তাঁদের সাক্ষাৎকার পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে এবং নতুন তারিখ পরে জানানো হবে।
ট্রাম্প প্রশাসন ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান ও অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতি অনুসরণ করছে। এর মধ্যে ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং বিভিন্ন কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যানের মতো পদক্ষেপও রয়েছে। রাজনৈতিক মতামত এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের গাজা অভিযানের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো বিষয়ও এসব পদক্ষেপের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
তবে অভিবাসনসংক্রান্ত এসব নীতি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়েছে। শুক্রবার এক মার্কিন বিচারক ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নীতি বাতিল করে দেন। বিচারকের মতে, এ নীতি বাস্তবায়নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনগত কর্তৃত্বের সীমা অতিক্রম করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসননীতির সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকারের পরিপন্থী।
অধিকারকর্মী সংগঠনগুলোর দাবি, এসব অভিযানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁদের মধ্যে অনেকে জাতিগত প্রোফাইলিং নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে তাঁর প্রশাসনের নীতিতে বৈধ অভিবাসনের প্রক্রিয়াও আরও কঠিন হয়েছে। এর মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু কর্মভিত্তিক ভিসার আবেদনকারীদের জন্য নতুন ও ব্যয়বহুল ফি আরোপের বিষয়টিও রয়েছে।
Leave a comment