বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত একাডেমিক নিয়ম ও অভিজ্ঞতার শর্ত ডিঙিয়ে অধ্যাপক পদে ১০ জন চিকিৎসক পদোন্নতি পেতে যাচ্ছেন। এই তালিকার প্রায় সবাই সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত; যার মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এবং বিএনপিপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ‘ড্যাব’-এর বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
রোববার (১২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের এক চিঠিতে এই পদোন্নতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। জানা গেছে, বিধি মোতাবেক অধ্যাপক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ‘সক্রিয় শিক্ষকতার সময়সীমা’ এই চিকিৎসকদের নেই। তবে বিশেষ বিবেচনায় মহামান্য রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে তাদের এই অভিজ্ঞতার শর্ত ‘প্রমার্জন’ বা মওকুফ করিয়ে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। গত ৩ ও ৯ মার্চ এসব চিকিৎসকের পক্ষ থেকে অভিজ্ঞতার ঘাটতি মওকুফের আবেদন করা হয়েছিল।
পদোন্নতি পেতে যাওয়া চিকিৎসকদের মধ্যে রয়েছেন বিএমইউ ড্যাব শাখার সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা পরিচালক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক ও প্রক্টর ডা. শেখ ফরহাদ এবং সাবেক সভাপতি ডা. মোহাম্মদ আব্দুস সালাম। এছাড়া অর্থোপেডিক সার্জারি, শিশু সার্জারি এবং ইউরোলজি বিভাগের বেশ কয়েকজন চিকিৎসক এই বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন।
এই গণ-পদোন্নতির সংবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক একে ‘পদোন্নতির মহোৎসব’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, “একাডেমিক জগতে মেধা ও গবেষণার চেয়ে রাজনৈতিক পরিচয় বড় হয়ে দাঁড়ালে শিক্ষার মান ধ্বংস হয়ে যায়। যারা নিয়ম মেনে বছরের পর বছর পরিশ্রম করছেন, তাদের জন্য এটি চরম বৈষম্যমূলক এবং অনভিপ্রেত এক দৃষ্টান্ত।”
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের রাজনৈতিক পদোন্নতি শুধু প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামোকেই দুর্বল করে না, বরং চিকিৎসা বিজ্ঞানের উচ্চতর গবেষণা ও একাডেমিক উৎকর্ষকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিষয়টি নিয়ে বিএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Leave a comment