আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে নিহত হয়েছেন—এমন দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি । পাশাপাশি আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজ একই তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে জানানো হয়। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সে তাদের প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরেছে। তবে এ তথ্য এখনো আন্তর্জাতিকভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই হয়নি। ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্ন ও বিশ্লেষণ সামনে আসছে—বিশেষ করে, এত সুরক্ষিত স্থাপনায় হামলা কীভাবে সম্ভব হলো?
রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার ভোরে তেহরানের একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও গোপন স্থাপনায় শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে ছিলেন খামেনি। হামলার সময় তিনি একটি ভূগর্ভস্থ সুরক্ষিত বাংকারে অবস্থান করছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
হামলায় কেবল খামেনিই নন, তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সহযোগীও নিহত হয়েছেন বলে ইরানি সূত্রে জানানো হয়। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ইরানের সাবেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল সচিব আলী শামখানি এবং ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপোর—এমন দাবি প্রকাশিত হয়েছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার বা বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।
খামেনির ব্যবহৃত প্রাসাদ ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে এবং চারপাশে ব্যাপক অগ্নিদাহের চিহ্ন রয়েছে বলে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দাবি করা হয়।
বিশ্লেষকদের ধারণা, হামলায় অত্যন্ত শক্তিশালী ‘বাংকার-বাস্টার’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে। এ ধরনের অস্ত্র মাটির গভীরে অবস্থিত সুরক্ষিত স্থাপনাও ভেদ করতে সক্ষম। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত নির্ভুলতা ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় ছাড়া এমন হামলা কার্যকরভাবে পরিচালনা করা কঠিন।
তবে এসব বিশ্লেষণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি এবং বিভিন্ন সূত্রের প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে আলোচনা চলছে।
একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে—খামেনির অবস্থান সম্পর্কে হামলাকারীরা কীভাবে সুনির্দিষ্ট তথ্য পেল?
বিশ্লেষকরা বলছেন, উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা নজরদারি, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি, সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স এবং সম্ভবত ভেতরের তথ্যদাতার সমন্বয়ে এ ধরনের লক্ষ্যভিত্তিক হামলা সম্ভব হতে পারে। ইরানের মতো কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার দেশেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক লক্ষ্যভিত্তিক হামলার নজির রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনো বিস্তারিত তদন্তের ঘোষণা দেয়নি।
খামেনির মৃত্যুর দাবির পর ইরানে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানী তেহরানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) খামেনির হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে বলে রাষ্ট্রীয় সূত্র জানিয়েছে। এ ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে।
Leave a comment