ভোলার লালমোহন উপজেলায় অটোরিকশা চালককে কুপিয়ে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো চাকু ও চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে ভোলা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার।
পুলিশ সুপার জানান, গত ৩০ ডিসেম্বর রাতে চরফ্যাশন পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড থেকে লালমোহনের গজারিয়া বাজারে যাওয়ার কথা বলে যাত্রী সেজে অটোরিকশাটি ভাড়া করেন হত্যাকারীরা। চালক আবু বক্কর ছিদ্দিক তাদের নিয়ে রওনা হলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে লালমোহনের পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের কচুয়াখালী এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে বুকে ধারালো চাকু দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়। এরপর নীল রঙের অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে লালমোহন থানায় হত্যা ও ডাকাতির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ সুপার আরও জানান, ঘটনার পর লালমোহন সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে মঙ্গলবার হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী মো. ইব্রাহিম (৩৬)-কে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
ইব্রাহিমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুই সহযোগী—মো. রাজা (৩২) ও কাজী তারেক (৩৫)—কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো চাকু এবং চারটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা সবাই একটি আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপার বলেন, “এ ধরনের সহিংস অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
Leave a comment