যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটের ৫ নম্বর আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিবিদ্ শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন। তাঁর জন্ম কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সরারচর গ্রামে। সুদূর যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর এই টানা পুনর্নির্বাচনের বিজয়ের খবরে বাজিতপুরসহ দেশ-বিদেশের প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে ব্যাপক আনন্দ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়েছে।
শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। তাঁর বাবা নজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের আগরতলায় ‘জয়বাংলা যুবশিবির’-এর ক্যাম্প সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া চন্দন কিশোরগঞ্জ-৫ (বাজিতপুর-নিকলী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের বড় ভাই।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮১ সালে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান শেখ রহমান। কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে পরে জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সফলতার সঙ্গে বিবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পারিবারিক জীবনে তিনি তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে দ্বিতীয়।
উলেখ্য, ২০১৮ সালে প্রথমবার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটর নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন শেখ রহমান। তিনি অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় প্রথম মুসলিম ও প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আইনপ্রণেতা হওয়ার বিরল গৌরব অর্জন করেন। সেই থেকে তিনি সুদীর্ঘ সময় ধরে জর্জিয়ার ৫ নম্বর সিনেট আসনের সফল প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন।
নির্বাচনি ফলাফলের বিবরণী অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনে এই আসনে শেখ রহমানের বিপরীতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চূড়ান্ত জয় লাভ করেন। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে তাঁর অনুকূলে ৩৫ হাজার ১০১টি ভোট দেখানো হয়েছে। এর আগে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাথমিক (প্রাইমারি) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী রবিন ম্যাককয়কে ৬ হাজার ১৮৮ ভোটে পরাজিত করে দলের একক মনোনয়ন নিশ্চিত করেছিলেন তিনি।
শেখ রহমানের এই ধারাবাহিক জয়ে তাঁর জন্মভূমি বাজিতপুরের স্থানীয় অধিবাসী ও স্বজনদের মধ্যে বইছে উৎসবের আমেজ। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তাঁর ভাতিজা শেখ রাফিদ রহমান অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, “চাচা সিনেটর নির্বাচিত হওয়ায় আমাদের পুরো পরিবার ও এলাকাবাসী অত্যন্ত গর্বিত। আমেরিকার মাটিতে একজন বাংলাদেশি মুসলিম হিসেবে এতদূর পৌঁছানো কঠিন চ্যালেঞ্জের, যা তিনি জয় করেছেন।” স্থানীয় অধিবাসীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে শেখ মুজাহিদুর রহমান চন্দনের এই অগ্রগতি ভবিষ্যতে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সুনাম ও মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করবে।
Leave a comment