ইরানের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতে লিপ্ত হওয়ার পর থেকে আকাশপথে নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটের একটি বিশেষ কমিটির শুনানিতে ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা এড কেস পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনের বরাতে জানান, যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩৯টি মার্কিন বিমান পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। এই ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ (F-35A) লাইটনিং-২ এবং বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি বিমানের মতো ব্যয়বহুল আকাশযানও রয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদ সংস্থা ‘দ্য ওয়ার জোন’-এর তথ্যানুযায়ী, ইরান যুদ্ধে মার্কিন বিমান বাহিনী প্রায় ১৩ হাজার ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে ৩৯টি বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পাশাপাশি আরও ১০টি বিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের আকাশসীমার অভ্যন্তরেই একটি এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমান আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। যদিও শুনানির সময় পেন্টাগনের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জে হার্স্ট জনসমক্ষে এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি সরাসরি নিশ্চিত করেননি, তবে তিনি ক্রমবর্ধমান যুদ্ধব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সিনেট শুনানিতে জে হার্স্ট জানান, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের খরচ ইতোমধ্যে ২৯ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা) ছাড়িয়ে গেছে। গত এক মাসেই এই ব্যয়ের পরিমাণ ৪ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এই হিসাবের মধ্যে শুধুমাত্র গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জামের খরচ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; সামরিক ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি বা যুদ্ধের প্রস্তুতিমূলক বিশাল ব্যয় এর বাইরে রাখা হয়েছে।
মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক দশকের জমানো অস্ত্রের ভাণ্ডার দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১,২০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল এবং চীনের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য সংরক্ষিত ১,১০০টি দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ মিসাইল ইতোমধ্যে ব্যবহার করে ফেলেছে ওয়াশিংটন। বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্রের এই শূন্যস্থান পূরণ করতে মার্কিন সরকারের মোট ব্যয় ২০০ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে।
যুদ্ধব্যয় পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ‘ইরান ওয়ার কস্ট ট্র্যাকার’-এর তথ্যমতে, বুধবার (১৩ মে) পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মোট খরচ ৭৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সেকেন্ডে ১১ হাজার ৫৭৪ ডলার এবং প্রতিদিন প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হচ্ছে। এই হিসেবে যুদ্ধ ফেরত সেনাদের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করলে খরচের খতিয়ান আরও দীর্ঘ হবে।
পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ হিসাব ও স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর এই তথ্যসমূহ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্র কেবল অর্থনৈতিকভাবেই নয়, বরং সামরিক কৌশলগত দিক থেকেও বড় ধরণের সংকটে পড়তে পারে।
Leave a comment