পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে আইনশৃঙখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এক ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা সংঘটিত হয়েছে। শনিবার (৯ মে) রাতে আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী বান্নু জেলায় একটি নিরাপত্তা চৌকি লক্ষ্য করে চালানো এই গাড়ি বোমা ও বন্দুক হামলায় অন্তত ১২ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। হামলায় সন্ত্রাসীরা প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে, যা এই অঞ্চলে নিরাপত্তার নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে পুলিশের নিরাপত্তা চৌকিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। আত্মঘাতী এই বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে, পুরো চেকপোস্ট ভবনটি ধসে পড়ে এবং সংলগ্ন বেসামরিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য পৌঁছালে ওত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর অতর্কিত ‘অ্যাম্বুশ’ বা চোরাগোপ্তা হামলা চালায়। এই সময় সন্ত্রাসীরা ড্রোনের মাধ্যমে ওপর থেকে আক্রমণ চালিয়ে উদ্ধারকাজে বিঘ্ন ঘটায় এবং ব্যাপক হতাহতের সৃষ্টি করে।
‘ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদীন পাকিস্তান’ নামে একটি নবগঠিত সশস্ত্র গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তারা একে তাদের সুপরিকল্পিত অভিযানের অংশ হিসেবে দাবি করেছে। বান্নু জেলার জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা জাহিদ খান জানিয়েছেন, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ চাপা পড়ে আছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই নজিরবিহীন হামলার পর পুরো খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের বিশেষ দল সন্ত্রাসীদের ধরতে বান্নু এবং এর আশেপাশের এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু করেছে। সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসীরা যাতে আফগানিস্তানে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় ক্রমবর্ধমান এই অস্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসীদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Leave a comment