ইরানি তেল কেনার অভিযোগে চীনের পাঁচটি তেল শোধনাগারের ওপর যুক্তরাষ্ট্র যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, তা কার্যকর ঠেকাতে আইনি নির্দেশনা জারি করেছে বেইজিং। শনিবার (২ মে) চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করেছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে।
চীন সরকারের দাবি, ওয়াশিংটনের একতরফা এই নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ ইরানের তেল রপ্তানি থেকে রাজস্ব বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টাকে নতুনভাবে জটিল করে তুলেছে।
চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে পাঁচটি শোধনাগারের নাম প্রকাশ করেছে, সেগুলো হলো—হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল (ডালিয়ান) রিফাইনারি, শানডং জিনচেং পেট্রোকেমিক্যাল গ্রুপ, হেবেই সিনহাই কেমিক্যাল গ্রুপ, শৌগুয়াং লুচিং পেট্রোকেমিক্যাল এবং শানডং শেংক্সিং কেমিক্যাল। এর মধ্যে হেংলি পেট্রোকেমিক্যালের ওপর গত এপ্রিল মাসে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেয় মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। অভিযোগ ছিল, প্রতিষ্ঠানটি ইরান থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল কিনেছে। অন্যদিকে বাকি চারটি শোধনাগারের ওপর আগেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে বেইজিং সরাসরি আইনি সুরক্ষা দেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে। চীনের অবস্থান হলো, কোনো সার্বভৌম দেশের বৈধ বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মধ্যে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই আইনি নির্দেশনা ইরানি তেলের বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে ডলারনির্ভর আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে লেনদেনের পথ উন্মুক্ত হতে পারে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধ নীতির বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের একটি দৃঢ় অবস্থান হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
চীন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের অন্যতম প্রধান জ্বালানি আমদানিকারক দেশ। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দাবি করে, চীনের এই তেল ক্রয় ইরানের অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে চীন বারবার বলেছে, তারা কোনো দেশের চাপিয়ে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা মানতে বাধ্য নয়।
এই ঘটনার ফলে United States ও China-এর মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চীন ভবিষ্যতেও নিজস্ব শোধনাগারগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার কৌশল অব্যাহত রাখবে।
Leave a comment