যুক্তরাষ্ট্রের স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা স্পিরিট এয়ারলাইন্স সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। সরকারের বেলআউট বা পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় ঋণদাতাদের সমর্থন না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া হয়ে কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক তেলের দাম বৃদ্ধিই এভিয়েশন খাতে এই প্রথম বড় ধসের অন্যতম প্রধান কারণ।
প্রতিষ্ঠানটির পতনের পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে জেট ফুয়েলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। প্রায় দুই মাস ধরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে বিমান জ্বালানির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে যায়। এতে ছোট ও মাঝারি এয়ারলাইন্সগুলো মারাত্মক আর্থিক চাপে পড়ে, যার মধ্যে স্পিরিট ছিল অন্যতম।
স্পিরিট এয়ারলাইন্স যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচলের প্রায় ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করত এবং কম খরচে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল। এই সংস্থার পতনে হাজার হাজার কর্মীর চাকরি হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীদের জন্য হাজারো ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদের এক জরুরি বৈঠকে কোনো সমাধান না আসার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংস্থাটি যাত্রীদের বিমানবন্দরে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে এবং সব ফ্লাইট বাতিল করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, স্পিরিটের মতো লো-কস্ট ক্যারিয়ারের ব্যবসা মডেলই মূলত জ্বালানি সংকটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে। কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণের চাহিদা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি খরচের অস্থিরতা এ ধরনের সংস্থাগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে।
ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা তৈরি হয়, যার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বিমান শিল্পে, যেখানে জ্বালানি ব্যয় মোট পরিচালন খরচের প্রায় এক-চতুর্থাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন মন্ত্রী জানিয়েছেন, স্পিরিটকে বাঁচাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোনো বড় বিনিয়োগকারী এগিয়ে আসেনি। সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ কোটি ডলারের সহায়তার প্রস্তাব থাকলেও অভ্যন্তরীণ মতভেদের কারণে তা কার্যকর হয়নি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই ঘটনা শুধু একটি কোম্পানির পতন নয়, বরং বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দুর্বল ব্যবসায়িক খাতগুলো কতটা ঝুঁকিতে রয়েছে তার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। তারা সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে বিমান চলাচল খাতে আরও কোম্পানি সংকটে পড়তে পারে এবং এর প্রভাব সরাসরি সাধারণ যাত্রী ও বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর পড়বে।
Leave a comment