মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের নতুন ও ভয়াবহ এক পরিকল্পনা সাজিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে এই নতুন যুদ্ধ-পরিকল্পনা বা ‘অপারেশন ব্লুপ্রিন্ট’ উপস্থাপন করবেন সেন্টকম প্রধান ব্র্যাড কুপার। এই পদক্ষেপ তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ককে এক অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের কিনারে ঠেলে দিচ্ছে।
অ্যাক্সিওসের তথ্যমতে, সেন্টকমের এই পরিকল্পনায় মূলত ইরানের ওপর একটি ‘সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী’ হামলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হতে পারে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামো। আলোচনার টেবিলে তেহরানকে কোণঠাসা করা এবং তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করতে বাধ্য করাই এই সম্ভাব্য হামলার প্রধান উদ্দেশ্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, তেহরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির একটি নির্দিষ্ট অংশ মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় মার্কিন স্থলবাহিনী মোতায়েন করার পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া ইরানের কাছে মজুত থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করতে পেন্টাগন বিশেষ কমান্ডো বাহিনী মোতায়েনের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বুধবার এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে, তিনি সরাসরি বোমাবর্ষণের চেয়ে নৌ-অবরোধকে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ‘অধিক কার্যকর’ মনে করেন। বর্তমানে মার্কিন নৌ-অবরোধের মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতিকে শ্বাসরুদ্ধ করার নীতিতেই অটল রয়েছেন তিনি।
তবে সেন্টকমের এই নতুন ব্রিফিং ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কেবল অবরোধে কাজ না হলে ট্রাম্প আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে পারেন। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের মতে, শান্তি আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙতে এবং ইরানকে একটি স্থায়ী চুক্তিতে বাধ্য করতে ‘মিলিটারি অপশন’ বা সামরিক বিকল্পটি সব সময়ই টেবিলের ওপর রাখা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালিতে সরাসরি স্থলবাহিনী নামানোর বা ইউরেনিয়াম জব্দের মতো দুঃসাহসিক পদক্ষেপ নেয়, তবে তা একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের সূচনা করতে পারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ইতিমধ্যেই এই অস্থিরতার প্রভাবে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। এখন বিশ্ব মহলের নজর বৃহস্পতিবারের এই ব্রিফিংয়ের দিকে—ট্রাম্প কি কেবল অবরোধেই সীমাবদ্ধ থাকবেন, নাকি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো যুদ্ধের দামামা বাজাবেন?
Leave a comment