নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের পিএইচডি গবেষক নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিও আর বেঁচে নেই। শনিবার (২৫ এপ্রিল) বৃষ্টির বড় ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই হৃদয়বিদারক সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শুক্রবার সকালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের খণ্ডিত মরদেহ ফ্লোরিডার টাম্পার একটি সেতু থেকে উদ্ধার করেছিল পুলিশ। মেধাবী এই দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে দেশের শিক্ষা অঙ্গন, বিশেষ করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) পরিবারে শোকের মাতম চলছে।
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নোবিপ্রবির অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৩তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। শনিবার তার ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত ফেসবুকে একটি সংক্ষিপ্ত পোস্টে লেখেন, “আমার বোন আর নেই। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।” তার এই পোস্টের পর মুহূর্তেই সহপাঠী ও পরিচিতজনরা এই অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
তদন্ত কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ এপ্রিল সকাল ৯টায় জামিল লিমনকে তার অফ-ক্যাম্পাস আবাসস্থলে শেষবার দেখা গিয়েছিল। তার ঠিক এক ঘণ্টা পর সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিল্ডিংয়ে দেখা যায় বৃষ্টিকে। এরপর থেকেই তাদের দুজনের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং তারা রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন।
নিখোঁজ হওয়ার এক সপ্তাহ পর শুক্রবার সকালে টাম্পার ‘হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ’ থেকে লিমনের দেহাংশ উদ্ধার করে হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফ অফিস। বৃষ্টির মৃত্যুর কারণ বা তার মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘারবিয়াহকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত জামিল লিমন ইউএসএফ-এর ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন এবং নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে একই পর্যায়ে গবেষণারত ছিলেন। প্রবাসে দুই সম্ভাবনাময় গবেষকের এমন করুণ মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং দেশের নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে শোকসভা ও প্রার্থনার আয়োজন করা হচ্ছে।
Leave a comment