বিশ্বের অন্যতম কৌশলগত ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান। এখন থেকে এই প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি বিদেশি জাহাজকে নির্দিষ্ট হারে ‘টোল’ বা মাশুল দিতে হবে—এমন একটি কঠোর আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির পার্লামেন্ট। ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজকে উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পার্লামেন্টের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রভাবশালী সদস্য জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌম তদারকিকে আনুষ্ঠানিক আইনি স্বীকৃতি দিতে এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চলাচলকারী বিদেশি জাহাজগুলো থেকে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই আইনের খসড়া তৈরির কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অপরিহার্য একটি পথ। বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান এই অঞ্চলে আংশিক অবরোধ জারি করেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।
ইরান সরকার স্পষ্ট করেছে যে, এই অবরোধ মূলত তাদের ভাষায় ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশ অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং তাদের মিত্রদের ওপর কার্যকর হবে। তবে মিত্র দেশগুলোর জন্য এই পথ খোলা থাকলেও তাদের কঠোর কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। গত ২৪ মার্চ জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থা (আইএমও)-কে দেওয়া এক চিঠিতে তেহরান জানিয়েছে, বাণিজ্যিক প্রয়োজনে কোনো জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতে চাইলে প্রবেশের আগে অবশ্যই ইরানের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এটি কার্যকর হলে পণ্য পরিবহনের খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির ওপর। অন্যদিকে, এই আইনের মাধ্যমে ইরান কৌশলগতভাবে পশ্চিমা দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টির নতুন একটি হাতিয়ার হাতে পেল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র : দ্য স্ট্রেইট টাইমস
Leave a comment